ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এলমা চৌধুরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার স্বামী ইফতেখার আবেদীনকে ফের দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম আরফাতুল রাকিব এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই নিয়ে তৃতীয় দফা রিমান্ডে নেওয়া হলো ইফতেখারকে।
বিকেলের দিকে গুলশান থানা-পুলিশ ইফতেখারকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই সালাউদ্দিন মোল্লা আবারও তিন রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর ইফতেখারকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তার আগে ১৫ ডিসেম্বর ইফতেখারকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। আগের দিন ইফতেখারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান থানা-পুলিশ গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে এলমা চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করে। পরে এলমা চৌধুরীর বাবা মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, এ বছরের ২ এপ্রিল এলমা চৌধুরীর সঙ্গে ইফতেখার আবেদীন এর বিয়ে হয়। এলমা চৌধুরীকে বিয়ের পর থেকেই তাঁর পড়াশোনা বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে স্বামী ইফতেখার ও তার পরিবারের সদস্যরা। পড়াশোনা বন্ধ করতে রাজি না হওয়ায় এলমা চৌধুরীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন তাঁর স্বামী। এদিকে তিন মাস পর স্বামী ইফতেখার কানাডায় চলে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে এসে আবারও এলমা চৌধুরীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন তিনি।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয় ১৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এলমা চৌধুরীকে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইফতেখার, তাঁর মা শিরিন আমিন ও ইফতেখারের পালক বাবা মোহাম্মদ আমিন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করেছেন।
এজাহারে আরও বলা হয় এলমা চৌধুরীর নাকে কালচে দাগ, ওপরের ঠোঁট, বাম কান, থুতনি, পিঠ, পায়ের আঙুল, পায়ের হাঁটুর নিচে কাটাছেঁড়া ও আঘাতের চিহ্ন ছিল।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিকে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ইফতেখার এলোমেলো কথা বলছেন। তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না। অন্যদিকে ঘটনা এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে মৃত এলমা চৌধুরীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এই অবস্থায় স্বামী ইফতেখারকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।