ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ছয় বছরের এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলায় এক আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন মো. কামরুল। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে ভুক্তভোগী শিশু। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটি বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত মো. কামরুল চকোলেট খাওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ১০ টাকা দিয়ে প্রলোভন দেখান। পরে অভিযুক্ত কামরুল ওই শিশুকে যৌন হয়রানি করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, শিশুটি ভয় পেয়ে চিৎকার করলে তার মা ও নানা-নানি অভিযুক্তের ঘরে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। পরে ঘরের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিশুটিকে উদ্ধার করেন তারা।
শিশুটির কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে স্থানীয় লোকজনকে জানালে তারা অভিযুক্তকে আটক করে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। ওই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১ মে কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাম্মেল হক কামরুলকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন।
২০১৯ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটির বিচারকালে ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।