ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মেয়ের আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ থানা চত্বরে হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনার পর শাহবাগ থানার সামনে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে থানার সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের সমর্থন জানিয়েছিল ইসলামী ছাত্রশিবির। শিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা করেছেন।
সম্প্রতি ঈশান চৌধুরী নামের একটি আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর কন্যাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হয়। এরপর অরণ্য আবির নামের একটি আইডি থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ পোস্ট দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আজ সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থানায় যান। এরপর থানা চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে হেফাজতে নিতে পুলিশকে অনুরোধ করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় ডাকসুর কয়েকজন নেতা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে উসকানিমূলক কথা বললে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ডাকসুর দুই নেতা মারধরের শিকার হন।
এরপর পুলিশ জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে উদ্ধার করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে নিয়ে যায়। এর মধ্যে থানার সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদের দাবি, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা করেছেন।
তবে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জুবায়েরসহ ছাত্রশক্তি ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা থানায় এলে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের মারধরের চেষ্টা করে। তখন ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ নেতা-কর্মীরা তাঁদের রক্ষার চেষ্টা করেন।
রাত পৌনে ৯টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম শাহবাগ থানায় আসেন। এর কিছু পর ছাত্রদলের সভাপতি ও পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জুবায়ের মারধরের শিকার অন্যদের থানা থেকে বের করে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম শাহবাগ থানার সামনে এলে তাঁকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ঘিরে ধরেন। এ ঘটনার পর দুই ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ক্যাম্পাসে সাদিক কায়েম সাংবাদিকদের বলেন, ‘থানায় মব করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’