রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে সংস্কারকৃত সংবিধানের প্রত্যাশা সকল রাজনৈতিক দল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জাতির কাছে তারা ওয়াদা করেছিল।
কিন্তু আমরা এখন এসে দেখতে পাচ্ছি, সেই কাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদ, সেই গণভোটের রায় বর্তমানে বাস্তবায়নে টালবাহানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল—জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গেও প্রতারণা। বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই এই প্রতারণা মেনে নেবে না।’
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘আজকের এই স্বাধীনতা দিবসে ২৬ মার্চে আমরা স্মরণ করছি, সেই বীর সেনানীদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিলাম। ২৬ মার্চ আমাদের জন্য এমন একটি দিন, যেই দিন আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম শুরু করেছিল।’
এনসিপি নেতা বলেন, ‘১৯৭১ সালের মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে যে মুক্তিযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তারপর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পার হয়েছে। এই সময়ে বারবার দেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার এসেছে, আর সেই স্বৈরাচারের ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ বারবার জীবন দিয়েছে।’
রংপুর-৪ আসনের এমপি বলেন, ‘২০২৪ সালে আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারী আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছিল। ১৯৭১ সালের মতোই ২০২৪ সালেও আমরা আরেকটি বিজয় অর্জন করেছি। ১৯৪৭ সালে এই ভূখণ্ডের মানচিত্র তৈরি হয়েছিল, আর ২০২৪-এর মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি।’
আখতার হোসেন বলেন, ‘আজ স্বাধীনতা দিবসে আমরা যেমন বীর শহীদদের স্মরণ করি, তেমনি তাদের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রক্ষার শপথ নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। সেই শপথের অংশ হিসেবেই জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই গণভোটে অধিকাংশ মানুষ “হ্যাঁ”র পক্ষে মত দিয়েছেন এবং সংস্কারের পক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়েছেন।’
এনসিপি সদস্যসচিব বলেন, ‘এই স্বাধীনতা দিবসে আমরা সেই সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই। আমরা মনে করি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—বীর শহীদেরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এই বাংলাদেশের সংবিধান বিদ্যমান কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র অর্জন সম্ভব নয়।’
আখতার হোসেন বলেন, ‘আজ স্বাধীনতা দিবসে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমরা বিনীত আহ্বান জানাই—স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে, ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করে এবং গণভোটের রায় কার্যকর করে একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যান।’