রাজধানীর দক্ষিণখানে পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘ইয়াবা কারবারির’ তকমা লাগিয়ে গণধোলাইয়ে ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. আনিসুর রহমান। তিনি বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটিতে (এভসেক) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত।
দক্ষিণখানের কাওলা বাজার এলাকায় আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই সময়ের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যায়। ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, কিছু যুবক পুলিশের পোশাক পরা অবস্থায় এএসআই আনিসুর রহমানকে মাদক কারবারি বলে মারধর করছেন। সেই সঙ্গে তাঁদের বলতে শোনা যায়, এএসআই আনিস ইয়াবা কারবারি। তিনি ইয়াবা বিক্রির জন্য কাওলায় এসেছেন। তাঁর সঙ্গে ইয়াবাও পাওয়া গেছে। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ইয়াবা দেখা যায়নি।
এ ঘটনায় দক্ষিণখানের কাওলা এলাকায় আজ সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে হামলার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দক্ষিণখানের কাওলার রফিকুল ইসলামের ছেলে আমিনুল ইসলাম ইমরান (২৯) ও ইঞ্জিনিয়ার সামছুল আলমের ছেলে তাহমিদ ফিরোজ স্মরণ (৩২)।
এ বিষয়ে ডিএমপির দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরীফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে জানতে পারি, কাওলা এলাকায় এক পুলিশকে মারধর করা হচ্ছে। পরে একটি পুলিশের টিম পাঠিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।’
ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগী এএসআই আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি এভসেকে কর্মরত। কাওলা থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে তাঁকে আটকে হামলা ও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান ওসি শরীফ।
এ বিষয়ে জানতে এএসআই আনিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও ওই ঘটনার পর তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও থানা-পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পেশাদার মাদক কারবারি। এএসআই আনিস হামলাকারী মাদক কারবারিকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। যে কারণে তাঁর সঙ্গে মাদক কারবারিদের আগে থেকেই শত্রুতা ছিল। এর জেরে আজ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র জানায়, কাওলা বাজারে হামলার পর লোকজন যখন দক্ষিণখান থানা-পুলিশ ও জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশকে অবগত করে, তখন এএসআই আনিসকে সেখান থেকে সরিয়ে স্মরণের বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে সেখান থেকেই তাঁকে উদ্ধার করে থানা-পুলিশ।