ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আগামী এক বছরের জন্য নেতা নির্বাচনে ভোট দেন আইনজীবীরা। তবে ২০ হাজার ৭২৭ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৭৫৯ জন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ও রায়হান মোর্শেদ। তাঁরা জানান, প্রথম দিনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে প্রথম দিনে খুবই কমসংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছেন। বৈরী আবহাওয়া ও একটি পক্ষ নির্বাচন না করায় ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল বলে ধারণা করছেন আইনজীবীরা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। আইনজীবীরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
বোরহান উদ্দিন আরও বলেন, তবে এবারের নির্বাচনে আলোচিত দিক হলো—আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা কোনো প্যানেল দিতে পারেননি। আওয়ামী লীগ ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে দুই দশকের বেশি সময় ধরে একই প্যানেলে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াত পৃথক প্যানেল দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবারের আইনজীবী নেতা নির্বাচনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ-সমর্থিত আইনজীবীরা লড়ছেন ‘নীল প্যানেলে’ (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল), অন্যদিকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সমর্থিত আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন ‘সবুজ প্যানেলে’ (আইনজীবী ঐক্য পরিষদ)। প্রতিটি প্যানেল থেকে ২৩ জন করে ৪৬ জন ও স্বতন্ত্র আটজনসহ মোট ৫৪ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এবার আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ’ (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। কিছু আওয়ামীপন্থী আইনজীবী স্বতন্ত্র হিসেবে লড়তে চাইলেও ‘অনুমতি’ না মেলায় তাঁরা অংশ নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট ও বিজয়ের প্রত্যাশা করছে বিএনপিপন্থী নীল প্যানেল ও জামায়াত-সমর্থিত সবুজ প্যানেল।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহসহ আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।