রাজধানীর উত্তরায় বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) স্থাপনা প্রকল্পের গার্ডার পড়ে শিশুসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব সদরদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আ ন ম ইমরান খান আজ বুধবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এএসপি আ ন ম ইমরান খান বলেন, ‘উত্তরায় প্রাইভেটকারের ওপর নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট থেকে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঘাতক ক্রেন চালক ও সহকারী, নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মীরা রয়েছে।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দক্ষিণখানের কাওলা এলাকার রেজাউল করিম হৃদয় ও আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকার রিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। হৃদয়ের কাওলার বাড়িতে বউভাত অনুষ্ঠান শেষে সোমবার বিকেলে স্ত্রী রিয়া আক্তার, শাশুড়ি ফাহিমা আক্তার, খালা শাশুড়ি ঝর্ণা আক্তার ও তার ছোট ছোট দুই ছেলে-মেয়ে জান্নাতুল ও জাকারিয়াকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। প্রাইভেটকারটি (ঢাকা মেট্রো গ-২২-৬০০৮) চালাচ্ছিলেন হৃদয়ের বাবা আইয়ুব হোসেন রুবেল। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জসিম উদ্দিনের প্যাড়াডাইজ ভবনের সামনে বিআরটি প্রকল্পের উড়াল সেতু নির্মাণকাজে নিয়োজিত ক্রেন দিয়ে বক্স গার্ডার তোলা হচ্ছিল লোবেট ট্রাকে। কিন্তু বক্স গার্ডের তুলনায় ক্রেনের সক্ষমতা কম থাকায় ক্রেনটি কাত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বক্স গার্ডারটি এসে পড়ে প্রাইভেটকারটির ওপর। এতে প্রাইভেটকারের বাম পাশে থাকা নব দম্পতি হৃদয় ও রিয়াকে প্রত্যক্ষদর্শীদের সহযোগিতায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাকি পাঁচজনই প্রাইভেটকারের ভেতরে মারা যান।
দুর্ঘটনার তিন ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের সময় দুই শিশুসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। নিহতরা হলেন-হৃদয়ের বাবা আইয়ুব আলী হোসেন ওরফে রুবেল (৫৫), রিয়ার মা ফাহিমা আক্তার (৩৮), খালা ঝর্ণা আক্তার (২৭) ও তার দুই শিশু সন্তান জান্নাতুল (৬) এবং জাকারিয়া (৫)।
এ ঘটনায় নববধূর মামা মো. আফরান মন্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় ওই দিন দিবাগত রাতে অবহেলা জনিত কারণে গুরুতর আহত ও মৃত্যুর অভিযোগে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ক্রেনটির চালক, বিআরটি প্রকল্পের চাইনিজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিজিজিসি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে দায়িত্বপ্রাপ্ত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।