হোম > সারা দেশ > ঢাকা

প্রবন্ধের বই এবার কম

শরীফ নাসরুল্লাহ, ঢাকা

বইয়ের পাতায় চোখ বোলাচ্ছেন এক নারী। গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে। আজকের পত্রিকা

বইমেলার ১৩তম দিন গতকাল মঙ্গলবার হাজার ছাড়াল এবার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা। বিগত মেলাগুলোতে হাজার পূর্ণ হতো প্রথম সপ্তাহান্তেই।

বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র বলছে, গতকাল পর্যন্ত মোট বই বেরিয়েছে ১ হাজার ১৪২টি। এর মধ্যে প্রবন্ধের বই মাত্র ৩৮টি। যদিও সব বই প্রকাশকেরা তথ্যকেন্দ্রে পাঠান না। তা-ও এ থেকে একটা ধারণা তো মেলেই। স্টলের বিক্রয়কর্মীরা বলছেন, প্রবন্ধের বই কম বের হলেও বিক্রি খারাপ হচ্ছে না।

ক্রমেই বেড়ে চলা যন্ত্রনির্ভরতা মানুষকে কি মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে? কম্পিউটার, মোবাইলসহ নানা গ্যাজেট ফেসবুক, টুইটারের মতো যোগাযোগমাধ্যমে ঢুঁ মারলে মুহূর্তেই ডিজিটালি যুক্ত হওয়া যায় পৃথিবীর সব প্রান্তের সঙ্গে। কিন্তু শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি এসবের অনুশীলনের ভেতর দিয়ে মানুষের সশরীরে একে অপরের কাছে পৌঁছানোর আলাদা তাৎপর্য আছে। এভাবেই মানুষ আরও বেশি মানবিক ও সামাজিক হয়ে উঠতে পারে। যন্ত্রনির্ভরতার যুগে এই সামাজিক হয়ে ওঠার চেষ্টা হারিয়ে যাচ্ছে, বাড়ছে বিচ্ছিন্নতা। এসবই বর্ষীয়ান প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ সংকলন ‘বিচ্ছিন্নতায় অসম্মতি’র মূলভাব। বইটি নতুনভাবে বের করেছে পাঞ্জেরী। ২০১৪ সালে এই প্রবন্ধগুলো নিয়ে বই বের করেছিল বিদ্যাপ্রকাশ।

পাঞ্জেরী থেকে আরেকটি প্রবন্ধের বই বেরিয়েছে। সেটি হচ্ছে তানভীর মোকাম্মেলের ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’। দেশের বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রের পথিকৃতদের একজন তানভীর মোকাম্মেলের বইটিতে ১২টি প্রবন্ধ রয়েছে। প্রবন্ধগুলোর বিষয়ের মধ্যে রয়েছে—বাঙালির সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, শিক্ষা, সাহিত্য এবং বামপন্থী রাজনৈতিক চিন্তাধারা।

সিলেট বিভাগের হাওর অঞ্চল এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে ধামাইল গানের সূচনা। ধামাইল গানের সংগে পরিবেশিত হয় বৃত্তাকার নৃত্য। এই গান নিয়ে প্রবন্ধ সংকলন ‘ধামাইল উৎসের সন্ধানে’ বেরিয়েছে ড. অসীম চক্রবর্তীর সম্পাদনায়। প্রকাশক ভাষাচিত্র। তাদের স্টলের বিক্রয়কর্মী তাহসিন জানান, এ বছর ১২টি প্রবন্ধের বই বের করার পরিকল্পনা করেছিল ভাষাচিত্র। কিন্তু মেলার দিন কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬টি বই এসেছে। মেলায় আসা পাঠকেরা প্রবন্ধের বই মোটামুটি চাচ্ছেন।

ইসরাইল খানের সংগ্রহ ও সম্পাদনায় ‘সাময়িকপত্রে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক (১৯০১-৪৭)’ বইটি বের করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)। ১৯০১-৪৭ পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের এক অপূর্ব দলিল এই বই। সে সময়ের বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হওয়া কিছু প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে এতে। সওগাত, বুলবুল, মোহাম্মদী, শিখা, নবনূর, প্রবাসীসহ তখনকার বিখ্যাত সাময়িকপত্রে লেখা প্রবন্ধ থেকে বাছাই করা হয়েছে লেখাগুলো।

মাওলা ব্রাদার্স বের করেছে বাংলাদেশের সমকালীন শিল্প, সাহিত্য, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র এবং ফ্যাশন বিষয়ে বিশ্লেষণ নিয়ে বই ‘ক্রিটিক্যাল শিল্প ও সাহিত্যতত্ত্ব’। সম্পাদক মাসউদ ইমরান। প্রতিষ্ঠানটি আরও এনেছে সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও লেখক সেলিম জাহানের প্রবন্ধ সংকলন ‘বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’। মাওলা ব্রাদার্সের বিক্রয়কর্মী হাসনাত কবির বলেন, ‘এবারের মেলায় পাঠক কম এসেছে এটা ঠিক। তবে যাঁরা এসেছেন, বেশির ভাগই বই কিনছেন। উপন্যাসই বেশি চলছে। তবে প্রবন্ধের বইও কিনছেন কেউ কেউ।’

এ ছাড়া নব সাহিত্য প্রকাশনী মাসুদুজ্জামান শান্তর ‘কালচার: মানুষের ভিতরের সভ্যতা’, পিয়াল প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্স আকমল হোসেন খোকনের ‘গদ্যসর্বস্ব’, চন্দ্রাবতী একাডেমি আসমা উল হোসনা চৌধুরীর ‘বাংলা গদ্যসাহিত্য: বিবিধ বিকিরণ’ নামে প্রবন্ধের বই বের করেছে।

নতুন বইয়ের খোঁজে

১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেরিয়েছিল কবি মোহন রায়হানের কবিতার বই ‘জ্বলে উঠি সাহসী মানুষ’। প্রতিবাদ আর দ্রোহের সুর মিশ্রিত সেই কবিতাগুলোকে এবার নতুনভাবে মলাটবদ্ধ করেছে আগামী প্রকাশনী।

সুফিসাধক ও কবি মাওলানা জালালুদ্দিন রুমির চিন্তা, আধ্যাত্মিকতা প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর কবিতায়। ‘মওলানা রুমির রুবাইয়াৎ’ শিরোনামে তাঁর লেখা রুবাই (চার পঙক্তির কবিতা) সংকলন বের করেছে পুঁথিনিলয়। বইটি অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ আলকামা সিদ্দিকী।

গতকাল তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ১৪৬টি।

অন্যান্য আয়োজন

মূলমঞ্চে ছিল সম্প্রতি প্রয়াত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্মরণে আলোচনা। কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল এতে বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের পঠন-পাঠন ও জ্ঞানের পরিধি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। তাঁর লেখার ভঙ্গিটিও ছিল খুব অন্তরঙ্গ, যে কারণে প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন ধী-শক্তিসম্পন্ন অমায়িক একজন মানুষ। উপন্যাস, ছোটোগল্প, প্রবন্ধ ও নানা তাত্ত্বিক বিষয়ে ছিল তাঁর লেখালিখি। তাঁর উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মানুষ এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক।

সভাপতির বক্তব্যে খালিকুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বহুমাত্রিক চিন্তা ও কর্মের মধ্য দিয়ে শ্রেণিকক্ষে এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করেছেন, তাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক ইসরাইল খান এবং কবি মুহাম্মদ আবদুল বাতেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশিত হয়।

আজ বুধবার মেলা শুরু হবে বেলা ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

‎তেজগাঁও কলেজে ‘নকল’ ধরায় শিক্ষককে মারধর, মামলা

উত্তরায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুই হেলমেটধারীর গুলি

রাজধানীর তুরাগে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু

রাজধানীতে আবাসিক হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

‘বন্যার টাকা কই’—প্রশ্নের মুখে আসিফ মাহমুদ

রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবনের নিচে মিলল বৃদ্ধের রক্তাক্ত লাশ

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সায়েদাবাদে অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ করবে ডিএসসিসি

ঢাবির হলে তোফাজ্জল হত্যা: পলাতক ২২ আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

জনগণের ভোট ছাড়া সংরক্ষিত আসনে বসার যৌক্তিকতা নেই: সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি সালামের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিট