ঢাকার সাভারে ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাঝিকে হত্যার দায়ে ২০ বছর পর দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সপ্তম আদালতের বিচারক মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মো. আব্দুল মান্নান এবং মো. চান মিয়া ওরফে মারুফ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি চান মিয়া পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত। আসামি মান্নানকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৬ জুলাই বিকেলে সাভারের আমিনবাজার এলাকার নৌকার মাঝি মর্তুজা আলী ডিজেল কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে ৩০ জুলাই শ্যামলাসি হাওরের কচুরিপানার মধ্য থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. ইব্রাহিম বাদী হয়ে সাভার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২৮ মে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মো. আব্দুস সাত্তার আদালতে চার্জশিট দেন।
তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আসামি মান্নান ও চান মিয়া নিহতের নৌকা ভাড়া করে নদীতে নিয়ে যায়। পরে তারা তাঁকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পানিতে ফেলে দিয়ে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করলে তাদের কাছ থেকে নিহতের নৌকা উদ্ধার করা হয়।
আদালত ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে আদালত মোট ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।