রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়া এলাকায় ভাঙারি দোকানে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মিজানুর রহমান (৩৫) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর চারজনে দাঁড়াল। গতকাল রোববার দিবাগত পৌনে ১টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মিজানুর রহমানের।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন—শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এসএম আইউব হোসেন।
নিহত মিজানুর রহমান ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক ছিলেন। মিজানুরের স্ত্রী জহিরন বেগম জানান—তাদের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলায়। মিজানুরের বাবার নাম আব্দুর রহমান। এক সন্তান নিয়ে কামারপাড়া এলাকায় থাকতেন তাঁরা।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এসএম আইউব হোসেন বলেন, মিজানের শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এর আগে শনিবার রাতে মারা যায় মাজহারুল ইসলাম নামের একজন যার শরীর ৩২ শতাংশ দগ্ধ ছিল, ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে আলম ও ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়ে নুর হোসেন।
ডা. এসএম আইউব হোসেন জানান, বর্তমানে আরও চারজন দগ্ধ রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে শাহিন নামের একজনের শরীর ৩৫ শতাংশ, শফিকুল নামের ব্যক্তির শরীর ৮০ শতাংশ, আল আমিন নামের ব্যক্তির শরীর ৭০ শতাংশ, ও মাসুম নামের ব্যক্তির শরীর ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৬ আগস্ট) বেলা সারে ১১টার দিকে তুরাগ কামারপাড়া রাজাবাড়ি এলাকায় ভাঙারি দোকান ও রিকশার গ্যারেজে এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, কামারপাড়া এলাকায় একই ছাউনির নিচে ব্যাটারি চালিত রিকশার গ্যারেজ ও ভাঙারির দোকান। সেই ভাঙারির দোকানে পরিত্যক্ত পারফিউমের কিছু বোতল কোনো কারণে আগুনের স্পর্শ এসে বিস্ফোরণ ঘটে। সেখান থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং রিকশার গ্যারেজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।