চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ছাত্রদলের ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন করেন তাঁরা। মানববন্ধন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তাঁরা।
সমাবেশে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা শিবিরের দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এক শ্রেণির ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ বারবার দেখা যাচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর কাল রাত থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা হামলা করছে, আবার আজকে দেখতে পেলাম, রাকসু ভবনে একটি ছাত্রসংগঠন ভাঙচুর করেছে। আমরা মনে করি, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, এগুলো পুরো দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পাঁয়তারা। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইন্টেরিম একেবারে নির্বিকার। ইন্টেরিম যে ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে, তাদের সেই অনুযায়ী কাজ করা উচিত এবং দ্রুত দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা উচিত।’
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা দেখতে পেয়েছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কোনো তৎপরতা চালায় নাই। আবার একই সময়ে আমরা দেখতে পাইি, রাকসু ভবনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ভাঙচুর করেছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন উত্তোলন করতে বাধা দিয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার লড়াই, সেই লড়াইয়ের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলো। যারা এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, আমরা তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব সমাবেশের সঞ্চালনা করেন। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা শিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ জাবি শাখা, গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।