রাজধানীর উত্তরা শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র হোস্টেলে থেকে আবির হোসেন খান (১৮) নামের এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেন উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লাল মিয়া।
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আমতলী এলাকার মো. ফজলুর রহমান খানের ছেলে আবির। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান সে। নিহত আবির উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির ছাত্র।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে এসআই লালা মিয়া উল্লেখ করেন, আবিরের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার গলায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির কালো দাগ রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে এসআই লালা মিয়া জানান, আবির মোবাইলে গেমস খেলায় আসক্ত ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কারণে গতকাল দুপুরের পরে বাবা তাকে ছাত্র হোস্টেলে দিয়ে যান। এরপর বিকেলে হোস্টেলের কাজের আয়ার কাছে সে ফোন চায় বাড়িতে কথা বলবে বলে। তবে আয়া ফোন না দিলে সে আয়াকে বলে, `ফোন যেহেতু দেবেন না, তাহলে আমার বাড়িতে ফোন দিয়ে বলেন আমার মরদেহ নিয়ে যেতে।'
এরপর ওই কাজের আয়া দৌড়ে নিচে গিয়ে শিক্ষকদের জানালে পরে তারা সাততলার ৭০১ নম্বর রুমে গিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় কাত হয়ে বসা দেখতে পায় বলে দাবি করেন হোস্টেল সংশ্লিষ্টরা। আবির বেঁচে আছে ভেবে তাকে উদ্ধার করে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আবিরের বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান খান বলেন, `গতকাল তার সবকিছুই ভালো ছিল। বাড়ি থেকে আসার সময় তার মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে আসে। এরপর আমি তাকে ছাত্র হোস্টেলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে হোস্টেল থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয়, আবির সেন্সলেস হয়ে গেছে, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।' রাত সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
কী কারণে ছেলের মৃত্যু হতে পারে সে বিষয়ে কিছু জানাতে না পারলেও ছেলের মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না বলে জানান ফজলুর রহমান খান।
এদিকে শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখার পরিচালক মোহাম্মদ বকুল মিয়া বলেন, `গতকাল দুপুরে সে বাবার সঙ্গে হোস্টেলে আসে। আবিরকে রেখে তার বাবা চলে যান। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হোস্টেল থেকে তাঁকে খবর দেওয়া হয় সপ্তম তলায় ৭০১ নম্বর রুমে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় হেলান দিয়ে অচেতন অবস্থায় বসে আছে আবির। পরে কাজের আয়া সবাইকে খবর দেয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।' কীভাবে আবিরের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।