হোম > সারা দেশ > ঢাকা

মাদক নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে মাদক ব্যবসা, চিকিৎসার বদলে চলত নির্যাতন 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

গাজীপুরের ভাওয়াল মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার আড়ালে চলত মাদক ব্যবসা। এ ছাড়া সেখানে রোগীদের চিকিৎসার বদলে করা হতো নির্যাতন। এসব অভিযোগে ওই কেন্দ্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ ছাড়া সেখান থেকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা অনিক রহমান অভিসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফিরোজা নাজনিন বাঁধন, মনোয়ার হোসেন সিপন, রায়হান খান, দিপংকর শাহ দিপু ও জাকির হোসেন আনন্দ। 

আজ বুধবার দুপুরে র‍্যাব-২-এর সদর দপ্তরে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে র‍্যাব ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে অভিযান চালায়। এ সময় ৪২০টি ইয়াবা, নির্যাতনে ব্যবহৃত লাঠি, স্টিলের পাইপ, হাতকড়া, রশি, গামছা, খেলনা পিস্তল এবং কথিত সাংবাদিকের পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে। 

কমান্ডার মঈন জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি চলচ্চিত্র সমিতি র‍্যাবকে জানায়, একজন চিত্রনায়ক দীর্ঘদিন তাঁদের কার্যক্রমে অনুপস্থিত। পরবর্তী সময়ে তাঁরা জানতে পারেন, ওই অভিনেতাকে গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আটক রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। এমন তথ্যে, র‍্যাব সদর দপ্তর ও র‍্যাব-২ এর একটি দল ওই কেন্দ্রে অভিযান চালায়। সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় কোনো আয়োজন ছিল না। 

খন্দকার আল মঈন আরও জানান, বিশেষ করে তিনটি রুমে ২৮ জনকে গাদাগাদি করে রাখা হতো। বিভিন্ন সময় সেবা নিতে আসা রোগীদের মারধর করা ছাড়াও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করত। কিন্তু পরিবারগুলো থেকে প্রথমে ভর্তি ফি ৩ লাখ এবং প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হতো। কিন্তু এত টাকা নেওয়া হলেও সেবার মান ছিল খুবই নিম্নমানের। 

র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের অভিযুক্ত ফিরোজা নাজনিন বাঁধন জানিয়েছেন, তিনি প্রতি রোগীর কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিতেন। নিরাময় কেন্দ্রে দুজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কোনো চিকিৎসককে সেখানে পাওয়া যায়নি। সেখানে ২০ জন রোগীর চিকিৎসার অনুমোদন থাকলেও ২৮ জন রোগী পাওয়া যায়। 

ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানি করা হতো। চিকিৎসার নামে রশির সাহায্যে ঝুলিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। প্রতিবেলায় খাবারের মানও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যেসব নির্দেশনা ছিল তার কিছুই এখানে ছিল না। তা ছাড়া সব সময় ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও তা ছিল না। নিরাময় কেন্দ্রের মালিক এবং কর্মচারীদের তৎক্ষণাৎ র‍্যাপিড ডোপ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে তারা মাদকাসক্ত ছিল।

অভিনেতা অনিক রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘নামে মাদক নিরাময় কেন্দ্র হলেও সেখানে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হতো না। এমনকি ঠিকমতো খাবার ও ঘুমানোর বিছানার ব্যবস্থা ছিল না। কোনো অভিযোগ করলে বা কান্নাকাটি করলে করা হতো নির্যাতন।’ 

ঢাকা-৫ আসন: নতুন ভোটাররা উৎফুল্ল, আকাঙ্ক্ষা নতুন কিছুর

ভবঘুরের ছদ্মবেশে ৬ খুন: আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, কারাগারে সম্রাট

আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ৫ পুলিশ সদস্য আহত

বিরিয়ানি দিলে বুঝতে পারি ঈদের দিন— হুম্মামের মুখে গুমের অভিজ্ঞতা

বিআরটিএ ইকুরিয়ায় অভিযান, ২ দালালের কারাদণ্ড

সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের দুই মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

কিশোরের ৩৮ টুকরা কঙ্কাল: হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন দাবি পিবিআইয়ের

হাতিরঝিলে বাসা থেকে গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

সরে গেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকেরা, বাড্ডায় যান চলাচল শুরু

ভবঘুরের ছদ্মবেশে সিরিয়াল কিলার সম্রাট, সাভারে সাত মাসে ৬ খুন: পুলিশ