পাঁচ দফা দাবিতে মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে রোগীরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রাবেয়া বেগম বলেন, তাঁর বাসা নরসিংদীতে। বেশ কিছুদিন ধরে শরীর ব্যথায় ভুগছিলেন। আজ সকালে নরসিংদী থেকে ঢাকা মেডিকেল ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। কিন্তু টিকিট পেলেও ডাক্তার দেখাতে পারেননি। ডাক্তার না দেখিয়েই চলে যেতে হচ্ছে। আগে থেকে জানলে আমরা তো আসতাম না।
হাজারীবাগ থেকে আসা শাফিন আলম বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে ঠান্ডা জ্বরে ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে দেখেন, টিকিট কাউন্টারসহ চিকিৎসকদের কক্ষ বন্ধ। ডাক্তার না দেখিয়েই চলে যেতে হচ্ছে। এ রকম অনেকেই ফেরত যাচ্ছেন।
হাসপাতালের বহির্বিভাগের ওয়ার্ডমাস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সব বিভাগ খোলা ছিল। সাড়ে ১১টার পরে হঠাৎ করে চিকিৎসকেরা এসে টিকিট কাউন্টারসহ সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক রোগী ডাক্তার না দেখেই ফেরত যেতে হচ্ছে।
ডাক্তারদের পাঁচ দফা হলো—
১। ডাক্তার পদবি ব্যবহার সংক্রান্ত রিট প্রত্যাহার মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করা।
২। উন্নত বিশ্বের মান অনুযায়ী ওটিসি ড্রাগ আপডেট করা। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিতে ওষুধ ক্রয়-বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা।
৩। স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসক সংকট নিরসনে দ্রুত শূন্যপদে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ এবং আলাদা স্বাস্থ্য কমিশন গঠনপূর্বক ৬ষ্ঠ গ্রেডে চাকরি প্রবেশপথ তৈরি। প্রতিবছর চার থেকে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ করে চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখা। চিকিৎসকদের বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪-এ উন্নীত করা।
৪। বেকার তৈরির কারখানা সব ম্যাটস প্রতিষ্ঠান এবং মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা। শিক্ষাধীন ম্যাটস শিক্ষার্থী এবং ডিএমএফদের প্যারামেডিক হিসেবে পদায়নের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়াও এসএসিএমও পদবি বাতিল করে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদবি ব্যবহার চালু হয়। এটি ডাক্তার শব্দের সমার্থক হিসেবে জনগণকে ধাঁধায় ফেলে দেয়।
৫। চিকিৎসকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তায় চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বাস্তবায়ন করা।