হোম > সারা দেশ > ঢাকা

জাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও ছাত্রীকে বিবাহের অভিযোগ

জাবি প্রতিনিধি 

সহকারী অধ্যাপক এস এম এ মওদুদ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ-জেইউ) সহকারী অধ্যাপক এস এম এ মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন, অনাগত সন্তানকে হত্যা, ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ানো ও আইন ভঙ্গ করে বিয়ে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত সোমবার (২০ এপ্রিল) মওদুদ আহমেদের প্রথম স্ত্রী ভুক্তভোগী নারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করে ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবি করেন।

অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অভিযোগপত্রের নথি আমরা সংগ্রহ করেছি। আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর মওদুদ আহমেদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মওদুদ আহমেদ, তাঁর বোন ও মা মিলে ভুক্তভোগীকে ধারাবাহিক শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করেন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হলে তাঁর অনাগত সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া মওদুদ আহমেদের মা ও বোনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে তাঁকে চাপ দেওয়া, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে স্বামীর মাধ্যমে মারধর করানো এবং দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। নির্যাতনের কারণে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও এ-সংক্রান্ত মেডিকেল প্রমাণসহ ওসিসি থেকে ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স’-এর প্রমাণপত্র অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে মওদুদ আহমেদের পরকীয়া ও আইন লঙ্ঘন করে বিয়ের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে মওদুদ আহমেদ তাঁর এক ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন। এ সময় ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং বাবার বাড়িতে থাকতে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যক্তিগত ফোন হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। এমনকি ঈদের দিনও তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।

এর পর থেকে তাঁর স্বামী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সাভার পুলিশ টাউনে বাসা ভাড়া করে থাকেন এবং ১২ এপ্রিল ভুক্তভোগীকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে বাসা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। যার সামাজিক, ইসলামিক ও আইনগত কোনো ভিত্তি নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, মওদুদ আহমেদ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ করা বাসায় (ডি-৭৯) না থাকলেও ওই বাসা তাঁর নামে বরাদ্দ রয়েছে। এই অবস্থায় নিজেকে অসহায় দাবি করে ওই বাসায় বসবাসের অনুমতি চেয়ে তাঁর ওপর হওয়া বর্বরতা ও নির্মমতার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সহায়তা কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমি একজন নিরপরাধ ভুক্তভোগী নারী। আমার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার সাক্ষী রয়েছেন আমার প্রতিবেশীরা। আমার ওপর আমার স্বামীর এমন অন্যায়, প্রতারণা ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের বিচার প্রার্থনা করছি। বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়েও তিনি যে নৈতিকস্খলন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেছেন, তার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক এস এম এ মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘নির্যাতনের কারণে ভ্রূণ নষ্ট—সম্পূর্ণ মিথ্যা অপবাদ। মাতৃত্বকালীন পুরো সময় সে তার বাপের বাড়ি ছিল। আমাকে তখন জানানোও হয়নি। এটা অনেক আগের কথা। কিছুদিন আগে আমি তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছি। এর পর থেকে এমন মিথ্যা অভিযোগ করে আসছে। এ নিয়ে আমরা দুই পরিবার বসব।’

শাহবাগ থানার ভেতরে ধাক্কা–ধাক্কির শিকার কয়েক সাংবাদিক

শাহবাগ থানা চত্বরে ডাকসুর দুই নেতাকে মারধর

সাংবাদিকেরা প্রবেশাধিকার না পেলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: সমাবেশে আইনজীবীরা

ছাগল-কাণ্ডে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরানের জামিন

জ্বালানি সংকট: যেখানে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক, সেখানে বেশি ভিড়

আগারগাঁওয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী

রানা প্লাজা-তাজরীনে হতাহতদের ক্ষতিপূরণসহ ৭ দফা দাবি

ভার্চুয়াল আদালতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আইনজীবীদের আলটিমেটাম

মহাখালীতে বাসের ধাক্কায় নিহত দুজনের পরিচয় শনাক্ত

গ্রিন রোডে আবাসিক হোটেলের বাথরুমে মিলল তরুণীর মরদেহ