সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন আইনজীবীরা। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের লিখিত আবেদন ও সাধারণ আইনজীবীদের আপত্তির কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা বলছেন, কেউ কোনো দলের বা সংগঠনের পক্ষ থেকে দলবদ্ধ হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। বারের ‘তথাকথিত বিশেষ সাধারণ সভা’র নোটিশ কোনো প্রার্থীকে দেওয়া হয়নি। বরং মধ্যরাতে অ্যাডহক কমিটি মেসেজ দিয়ে পরদিন দুপুরে ‘মনগড়া সভা’ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ বুধবার আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন। তবে তাঁরা উপস্থিত না হয়ে পরে গণমাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠান। লিখিত বক্তব্যে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, কেউ কোনো দলের বা সংগঠনের পক্ষ থেকে দলবদ্ধ হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। ২৬ এপ্রিল বারের তথাকথিত বিশেষ সাধারণ সভার নোটিশ কোনো প্রার্থীকে না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি মধ্যরাতে মেসেজ দিয়ে পরদিন দুপুরে মনগড়া সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়, যা অবৈধ ও নিন্দনীয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বারের সংবিধান ও নিয়ম ভঙ্গ করে এবং সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপপ্রয়াস অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। অ্যাডহক কমিটি কর্তৃক নজিরবিহীন ও প্রহসনমূলক নির্বাচন সুপ্রিম কোর্ট বারের ৭৭ বছরের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
লিখিত বক্তব্যে বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত বাতিল করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাসহ অনেকে সুপ্রিম কোর্ট বারে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন, প্রেস ব্রিফিং করেছেন। তাঁরা বলেছেন, যাঁরা ইতিপূর্বে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচন করেছেন বা সমর্থন করেছেন, তাঁদের যেন বারের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, আইনজীবীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বারের বিশেষ সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৩ ও ১৪ মে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন আয়োজন করতে এরই মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে অ্যাডহক কমিটির সহসভাপতি ও সাবকমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির মঞ্জু গতকাল সন্ধ্যায় বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তবে সেখানে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। পরে বার ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা।
আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের বারের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে রাতেই ঘোষণা দেন তাঁরা। তবে আজ বেলা সোয়া ১টায় সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা থাকলেও এর আগেই সেখানে অবস্থান নেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। পরে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা উপস্থিত না হয়ে লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে পাঠিয়ে দেন।