‘এক সপ্তাহ ধরে খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম ভোট দেব। প্রথমবার ভোটার হয়েই নতুন একটা পরিবেশ পেয়েছি। ভোট দিতে এসেও কোনো ঝামেলা হয়নি।’ কথাগুলো বলছিলেন পূর্ব শেওড়াপাড়ায় মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে (ব্রাঞ্চ-৩) ৭৮ নম্বর কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাবাসসুম ইকরা।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে তিনি কেন্দ্রটিতে আসেন ভোট দিতে। এবার প্রথমবার ভোটার হয়েছেন। ভোট দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় জানান, প্রথমবার ভোটার হওয়ার পর উৎসুবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রায় দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
ঢাকা-১৫ আসনের ১২৭টি কেন্দ্রে ভোট দিতে আসছেন নতুন, তরুণ ও বিগত সরকারের আমলে যাঁরা ভোট দিতে পারেননি। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি বলে জানান এসব তরুণ ভোটার। তাঁরা বলছেন, জুলাই আন্দোলনের পর এবার নতুন পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁরা ভোট দিতে পেরেছেন। ঢাকা-১৫ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমনটি জানা যায়।
এবার নতুন ভোটার হয়েছেন তাসফিয়া ইসলাম প্রভা। জুলাই আন্দোলনে কাছ থেকে দেখেছেন তরুণদের নানা চাওয়া। ভোটের মাধ্যমে সেই কাঙ্ক্ষিত দেশ গড়ে ওঠার কথা জানান তিনি।
অলিজা আজাদ ইকরা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এত বছর তো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। এবার সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। আমরাও নিজেদের পছন্দমতো ভোট দিতে পারছি।’
ইব্রাহিমপুরে হাজী ইউসুফ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়। কেন্দ্রটিতে ভোট দিতে আসা ও ভোট দিয়ে বের হয়ে যাওয়া তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে; সে জন্য তাঁরা আগ্রহ নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন। ভোট দিতেও কোনো ঝামেলা হয়নি।
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল নামের এক তরুণ। লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আগে বাসায় বসেই জানতাম কারা নির্বাচিত হবে। ভোটারদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচন হতো না। কিন্তু এবার এই নিশ্চয়তা আছে, আমাদের ভোটেই প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।’
এদিকে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে আসেন বেগম রোকেয়া। ভোট দেওয়া শেষে মেয়ের জন্য অপেক্ষা করেন তিনি। এ সময় আজকের পত্রিকাকে রোকেয়া বলেন, ‘গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে আসেনি। এবার মেয়ের সঙ্গে নিজেও ভোট দিতে আসলাম। সহজে ভোট দিতে পেরেছি।’