রাজধানীর সূত্রাপুরে তাজিয়া মিছিলে ডুলির রশি ধরা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে জাকির হোসেন নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তিনজন কিশোর। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রাপ্তবয়স্ক যুবক রাশেদ। এ ছাড়া বাকি তিনজন কিশোর।
পুলিশ কর্মকর্তা তালেবুর রহমান বলেন, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুরের ইমামবাড়া থেকে একটি তাজিয়া মিছিল চকবাজার, লালবাগ হয়ে ধানমন্ডির উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মিছিলটি বাংলাবাজার অতিক্রম করার সময় পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক জাকির হোসেনের ওপর হামলা চালান। তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত যুবককে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জাকির হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এই ঘটনায় জাকির হোসেনের বড় ভাই অজ্ঞাতনামা ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তালেবুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রাশেদ এবং অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একটি চাকু, একটি চাপাতি এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, তাজিয়া মিছিলে থাকা ডুলির রশি ধরা নিয়ে নিহত জাকির হোসেনের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা জাকিরকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, গতকাল ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান দাবি করেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাজিয়া মিছিলের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।