জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ বাড়ানোর পর ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোয় চালকদের অপেক্ষার সময় খানিকটা কমে এসেছে। তবে যেসব পাম্পে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক, সেখানে তুলনামূলক বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে মোটরসাইকেলচালকদের।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার শাহবাগে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ফুয়েল পাসধারী মোটরসাইকেলচালকেরা তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর কিছুক্ষণ পর তেজগাঁও সাতরাস্তায় অবস্থিত সিটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটিতে প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেলের লাইন রয়েছে। আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করলেই মিলছে তেল।
সিটি ফিলিং স্টেশন থেকে ফুয়েল পাস দিয়ে তেল নেওয়ার পাশাপাশি ফুয়েল পাস ছাড়াও তেল পাওয়া যায়। ফুয়েল পাসে এক হাজার টাকা আর পাস ছাড়া ৫০০ টাকার তেল বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। আর মেঘনা মডেল পাম্পে তেল পেতে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, কেবল ফুয়েল পাসধারী মোটরসাইকেলচালকেরাই এই পাম্প থেকে তেল নিতে পারছেন।
মেঘনা পাম্পে মোটরসাইকেলচালক শরীফুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর বেলা আড়াইটার দিকে তিনি তেল নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আর সিটি পাম্পে অপেক্ষমাণ ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সেখানে আধা ঘণ্টা দাঁড়ালেই তেল পাওয়া যায়।
ঢাকার আসাদগেটে সোনার বাংলা ও তালুকদার ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই দুটি পাম্পে এক ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে কয়েকজন জানান।
তেজগাঁও নাবিস্কো এলাকায় সাউদার্ন ফুয়েল স্টেশনে প্রাইভেট কারচালক নেয়ামত উল্লাহ জানান, তিনি তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় আছেন। সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়ালেও তেল দেওয়া শুরু হয় দুপুর ১২টার দিকে। ফলে অপেক্ষার সময় বেশ লম্বা হচ্ছে।
এই পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলচালকেরা জানান, এক থেকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করে সেখানে তেল পাওয়া গেছে। এই পাম্পেও ফুয়েল পাসধারীদের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকার এবং পাসবিহীন চালকদের জন্য ৬০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
দুপুরে ঢাকার রমনা পেট্রলপাম্পে গিয়ে দেখা যায়, অন্য দিনের মতো চিরচেনা ভিড় আর নেই। সাধারণত দুপুর ১২টার পর এই পাম্পে তেল এলেও এ দিন তেল এসেছে সকাল ১০টায়। ফলে দুপুরের দিকে এই পাম্পে মোটরসাইকেলের ভিড় অনেকটাই কমে গিয়েছে।
পাম্পের ব্যবস্থাপক নাজমুল হক জানান, আজ অন্য দিনের তুলনায় ভিড় অর্ধেক কমে গেছে।
ঢাকায় প্রথম যে সাতটি পাম্পে ফুয়েল পাস চালু করা হয়েছিল, সেগুলোতে এখন ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক। আগামীকাল শুক্রবার থেকে আরও কয়েকটি পাম্পে ফুয়েল পাস চালু করা হবে বলে জ্বালানি বিভাগসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ঢাকায় বর্তমানে ৪৩টি পাম্পে ফুয়েল পাস চালু রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগপর্যন্ত গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি পেট্রল ও ডিজেল এবং ২০ শতাংশ বেশি অকটেন সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে। অচিরেই আরও ১১টি পাম্পকে বাধ্যতামূলক ফুয়েল পাসের আওতায় আনা হবে। ঢাকায় মোট ৪৩টি পাম্পে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক করা হবে।