২০১৫ সালে বোমা বিস্ফোরণের পর থেকে আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলের নিরাপত্তা গুরুত্বসহকারে দেখা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। আজ বুধবার রাজধানীর হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরা উদ্যাপন ও তাজিয়া-শোক মিছিল উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, আপনারা জানেন, আগামী ২৯ জুলাই পবিত্র আশুরা। সারা বিশ্বে মুসলিম সম্প্রদায় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র আশুরা বা ১০ মহররম পালন করে। শিয়া সম্প্রদায় আশুরা উপলক্ষে সুন্নিদের থেকে আলাদা কিছু রীতি ও নিয়মকানুন পালন করে। গত ৪৫০ বছর ধরে শিয়া সম্প্রদায় এই ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল ও প্রার্থনাসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। মূল অনুষ্ঠানটি পালন করা হবে ২৯ জুলাই। প্রতিবারই শান্তিপূর্ণভাবে এই অনুষ্ঠান পালিত হয়ে। কিন্তু ২০১৫ সালে তাজিয়া মিছিলে এখানে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল। ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ যারা তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘তারপর থেকে এই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তাটাকে আমরা বিশেষ গুরুত্বসহকারে দেখি, যাতে পুনরায় কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে না পারে। এর প্রেক্ষাপটে আজ আমরা এখানে ঘুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখলাম। আমরা ইমামবাড়া এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসেছি। রাস্তাগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এই এলাকার সামনে-পেছনে সাদা পোশাক ও পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এই পুরো এলাকা আমরা ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে সুইপিং করাব। এ ছাড়া মেশিনের সাহায্যে ম্যানুয়াল সুইপিং করাব, যাতে পুনরায় কোনো দুষ্কৃতকারী এখানে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটাতে পারে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আগামী ১০ মহররম উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিভাগ সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। আশা করব আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ জুলাই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই অনুষ্ঠান পালিত হবে। এ ক্ষেত্রে আয়োজকদের প্রতি আমাদের কিছু পরামর্শ আছে। তাজিয়া মিছিলে যেন উচ্চ স্বরে ঢাকঢোল না বাজানো হয়, গায়ে চাদর ঢেকে কোনো লোক যেন চলাফেরা না করে, শরীরের আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা শিশুদের জন্য দৃষ্টিকটুর হয়। এসব বিষয় এড়িয়ে চলা। আয়োজকদের সঙ্গে মিটিং করে এসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। তাঁরাও কিছু নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছেন। আশা করব সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করব।’