পাওনা টাকার জন্য চাপ দেওয়ায় পাওনাদারের ৯ বছরের শিশুকে হত্যা করে বস্তাবন্দী করে ময়লার ড্রেনের পাশে ফেলে রাখে এক যুবকসহ দুই কিশোর। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সেই সঙ্গে নিহত শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাতে গ্রেপ্তার তিনজনকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করে র্যাব-৪। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার টঙ্গিবাড়ী এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত শিশুর নাম তানভীর আহমেদ। সে কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার মো. সালাউদ্দিনের ছেলে। তার বাবা আশুলিয়ার টঙ্গিবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম। সে সুবাদে বাবা মায়ের সঙ্গে আশুলিয়াতেই থাকত তানভীর।
আসামিরা হলেন—আনোয়ার হোসেন (২৪), ১৪ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর। তারা সবাই আশুলিয়ার টঙ্গিবাড়ী এলাকায় ভাড়া থাকতেন বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে র্যাব বলছে, গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ারের কাছে নিহতের বাবা সালাউদ্দিন ধারের ২০ হাজার টাকা পেতেন। সেই টাকার জন্য সালাউদ্দিন আনোয়ারকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার ও তাঁর দুই সহযোগীসহ শবে বরাতের নামাজ শেষে কৌশলে তানভীরকে অপহরণ করে। পরে তাকে আছড়ে আহত করার পর ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ময়লার ড্রেনের পাশে বস্তাবন্দী করে ফেলে রাখে। পরে বিকেলে আশুলিয়ার টঙ্গিবাড়ী এলাকার ড্রেনের পাশ থেকে বস্তাবন্দী শিশু তানভীরের নিথর দেহ উদ্ধার করে র্যাব। মরদেহ উদ্ধারের ৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে একই এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব ৪ এর সিপিসি-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট রাকিব মাহমুদ খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নিহত শিশু তানভীরের বাবা আনোয়ারের কাছে ধারের টাকা জন্য চাপ দিলে ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। এর মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’