রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী মাজারে পূর্বপরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও নারী ভক্তদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও দলটির অঙ্গসংগঠনের সদস্যদের দায়ী করে মামলা করেছেন একজন ভুক্তভোগী নারী। এরপরই এজাহারভুক্ত একজনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ শনিবার রাজধানীর পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮) ও মো. আরমান দেওয়ান (২৯)। এর মধ্যে রাসেল এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, হামলার ঘটনায় মাজারের এক ভক্ত শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন। সেই মামলার ৬ নম্বর আসামিসহ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে সংঘটিত হামলার ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে শনিবার মামলা দায়ের করেন হামলার ভুক্তভোগী মোছা. রেসমি বেগম (৪০) নামের এক নারী।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন— মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), আজম (৪০), শেখ মো. রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) ও কাজী পনির (৫০)।
এজাহারে রেসমি বেগম উল্লেখ করেন, তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে নিয়মিত জিয়ারত করে আসছেন এবং বিভিন্ন ওরস ও মানত অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন।
হামলার ঘটনার বর্ণনায় এজাহারে বলা হয়, ঘটনার সময় রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে মাজারে জিয়ারত ও মানত চলাকালে আসামি ও অজ্ঞাতনামা ১০০–১৫০ জন ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে মাজারের প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করে। পরে তারা জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।
মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও দলটির সহযোগী এবং অঙ্গসংগঠনের সদস্যদের অভিযুক্ত করে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা মাজারের শিরনি, লাল কাপড়, মোমবাতি রাখার স্থানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপকরণ ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলে। এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি হামলায় বাধা দিতে গেলে আসামিরা তাঁকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। একই সঙ্গে তাঁর পোশাক টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ছাড়া মাজারের রান্নাঘরের খিচুড়ি তৈরির চুলা ও পাতিল ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয় এবং বাদীর কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা ও অন্যান্য ভক্তদের কাছ থেকে সর্বমোট প্রায় ৯০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মী ও ভক্তরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসার প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে।