হোম > সারা দেশ > ঢাকা

শিশুর প্রতি সহিংসতা: মামলার গতি কমে উচ্চ আদালতে

এস এম নূর মোহাম্মদ, ঢাকা  

ফাইল ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। দ্রুত দণ্ড কার্যকরের দাবিও উঠেছে। সরকারও দ্রুত সময়ে বিচারের আশ্বাস দিয়েছে। সে অনুযায়ী ঘটনার মাত্র ১৩ দিন পর এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিক বিচারও শুরু হয়েছে।

গত বছরের মার্চে মাগুরার শ্রীপুরে একই বয়সী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মাত্র ১২ কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন করে একই বছরের ১৭ মে রায় দিয়েছিলেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) পাঠানো হয় হাইকোর্টে। আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হাইকোর্টে শুরুই হয়নি। হাইকোর্টে নিষ্পত্তির পর মামলা যাবে আপিল বিভাগে।

বিচারিক আদালতে শিশুর ওপর নৃশংসতার মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও আটকে যাচ্ছে পরবর্তী ধাপে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রায় কার্যকরে ১৫-২০ বছর পর্যন্ত লাগছে। আইনজ্ঞরা মনে করছেন, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দ্রুত রায় কার্যকরে বড় বাধা। এ জন্য নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং হত্যার মতো অপরাধের শাস্তি দ্রুত কার্যকরের জন্য উচ্চ আদালতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবি উঠেছে। প্রধান বিচারপতি ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, পল্লবীর ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকরের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। তারপরও মানুষ আশ্বস্ত হচ্ছে না। কারণ, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যার যুগ পার হলেও এখনো অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। নিম্ন আদালতে সাজা হলেও হাইকোর্টে কত বছর পর শুনানি হবে, তা কেউ জানে না। তাই নারী, শিশু নির্যাতনসহ স্পর্শকাতর ঘটনাগুলোর শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, বিশেষ বেঞ্চ করলে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি হবে। জনগণও বুঝতে পারবে যে বিচার হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে বিচারক নিয়োগের দাবিও জানান তিনি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০(২) ধারায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানি শুরু হলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা চলবে। ধারা ২০(৩ক)-এ বলা হয়েছে, ধর্ষণ মামলার বিচার অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া ধারা ২০(৯)-এ বলা হয়েছে, ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত বিবেচনা করলে মেডিকেল সার্টিফিকেট ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে পারবেন।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি দ্রুততম সময়ে করার জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনে গত ২১ মে প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী।

ধর্ষণ মামলায় আপিল ও ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। তবে প্রধান বিচারপতি চাইলে পারেন।

কোনো মামলায় বিচারিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে কার্যকর করতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১০ ধারা অনুসারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন। হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পান আসামি। আপিল খারিজ হলে সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করার সুযোগ আছে। রিভিউ আবেদন খারিজ হলে সব শেষে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি আবেদন নামঞ্জুর করলে বা তাঁর কাছে আবেদন না করলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বাধা থাকে না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যতটুকু মনে পড়ে, রাজন, রাকিব, আছিয়া—এসব হত্যা মামলাগুলো খুব আলোচিত ছিল। এগুলোতে খুব তাড়াতাড়ি রায় হয়েছে। হয়তো পল্লবীর শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার খুব দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। মামলা হাইকোর্টে এলে হাইকোর্ট রুলস অনুযায়ী মামলার নম্বর এবং সাল অনুযায়ী শুনানি হয়। তবে প্রধান বিচারপতির একচ্ছত্র এখতিয়ার কোনো বিশেষ মামলা তিনি বিশেষভাবে শুনানির ব্যবস্থা করতে পারেন; যেটা পিলখানা হত্যা মামলায় হয়েছে। এ ছাড়া হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের বেঞ্চ বাড়িয়ে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

সুপ্রিম কোর্টে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৭২টি। গত বছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে ১০টি মামলা। বর্তমানে ২০১৮ সালের ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি চলছে। ধারাবাহিকভাবে নিষ্পত্তি হলে পল্লবীর মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড হলে হাইকোর্টে তা নিষ্পত্তির জন্য উঠবে ২০৩৪ সালে।

ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হবে কি না, জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মাজহারুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের চারটি বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি হচ্ছে। ঈদের ছুটি শেষে সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

রাজধানীতে যান চলাচল: ক্যামেরার আতঙ্কে সড়কে শৃঙ্খলা

মিরপুরে খালি বাসা থেকে যুগ্ম সচিবের মায়ের পোকা ধরা মরদেহ উদ্ধার

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শিল্পী কামরুদ্দীন আবসারকে দাফন

রিকশা ও অটোরিকশা বন্ধ নয়, লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

এআই ছবি দিয়ে উত্তরার মেট্রোরেল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ২ নেতাকে অব্যাহতি

মোহাম্মদপুরে বাসার ফটকে ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারী, ভিডিও ভাইরাল

নারায়ণগঞ্জে আজমেরী ওসমানের অনুসারীদের মিছিলে এনসিপির ধাওয়া

সুপ্রিম কোর্টের একটি ভবন থেকে কর্মচারীর লাশ উদ্ধার

রাজধানীর বংশালে গোডাউনে আগুন, দগ্ধ ৩