ভারতে খ্রিষ্টানসহ সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত, তাদের উপাসনালয় ভাঙচুর ও খ্রিষ্টান নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্মম অত্যাচার ও হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ও অরুণাচলসহ বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর যেভাবে হামলা চলছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ করছি, যাতে সেখানে অনুসন্ধান করে মূল ঘটনা বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ৪৫ লাখ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাস করে। কিন্তু এখানে কোনো রকম হামলা নেই। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক দেশ। সবার প্রতিই সহাবস্থান দেখানো হয়। কিন্তু ভারতে যেসব হচ্ছে তা নিন্দনীয়। মোদি বলছেন— তামিলনাড়ুতে গরু জবাই হবে না। কিন্তু বিজয় থালাপতি বলছেন— গরু জবাই হবে। অবশেষে আজ হাইকোর্টের রায় এসেছে গরু জবাই হবে। গরুকে মাতা হিসেবে দেখা বা মূত্র পান করা —এসব তারা করুক। কিন্তু কেউ গরু জবাই করে খেতে চাইলে তাকে তো বাধা দেওয়া অনুচিত।
ানববন্ধনে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী, এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আছে। তবুও অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে আমরা বসবাস করি। যে যার ধর্ম পালন করে থাকি, কেউ কারও ওপর জুলুম করি না। কিন্তু ভারতে মুসলমানসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর তারা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে নির্যাতন করতে করতে হত্যা করা হয়েছে। বাচ্চাদেরও ধর্ষণ করে হত্যা করা হচ্ছে। উপাসনালয়গুলোতে হামলা করা হচ্ছে। এটা কখনই নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে পারে না।
বাংলাদেশের মানুষকে উত্তেজিত না করার আহ্বান জানিয়ে মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা মানবিক সহায়তায় বিশ্বাসী। আমরা চাই, আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রেও শান্তি বিরাজ করুক। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে আপনারা এসব করতে পারেন না।’
এই প্রতিবাদে একাত্মতা জানিয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ভারতকে ঘোষিতভাবে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশটির শিক্ষিত সমাজকে এগিয়ে আসার কথা বলেন তিনি।
এ সময় বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি এলবার্ট পি কষ্টা বলেন, ভারতে এটা নতুন নয়। একটা সময় গেছে যে, ঈদের জামাতে শুয়োর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে দক্ষিণ ভারতে একজন ফাদারকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একইভাবে রানাঘাটে গত ৪-৫ বছর আগে একজন সিস্টারকে রেপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই যে ঘটনাগুলো ঘটছে এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমরা বাংলাদেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান যতটুকু ভালোভাবে আছি, এই ঐক্যটাকে বিনষ্ট করার জন্য ওখানকার আরএসএস সমর্থিত সরকার যারা আছেন তারা এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে।’