জামিনে মুক্তি পেয়েছেন আলোচিত যুবলীগ নেতা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএসএমইউ) প্রিজন সেল থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সম্রাট সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি ছিলেন। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কত দিন থাকতে হবে, এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সম্রাটের মুক্তি পাওয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিএসএমএমইউ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন তাঁর সমর্থক, ভক্ত ও মহানগর যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় নেতা-কর্মীদের বেশ উৎফুল্ল অবস্থায় দেখা যায়।
হাসপাতালের বাইরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসম্পাদক বাবু হাজারীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ভাইয়ের (সম্রাট) সঙ্গে দেখা করে এসেছি। ভাইয়ের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। ওনার সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোকজন রয়েছেন। তবে উনি কখন হাসপাতাল থেকে বের হবেন সে ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। সম্ভবত, এখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যাবেন।’
বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমাদের জানাবে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত আমাদের কিছু জানায়নি। হয়তো হাতে কাগজপত্র নিয়ে একবারে জানাবে। কিন্তু বর্তমানে সম্রাট সাধারণ রোগীদের মতো চিকিৎসা নেবেন। এখন থেকে আর বন্দী রোগী হিসেবে থাকবেন না। তবে সম্রাটের জামিন হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে চিকিৎসকেরা বুধবার তাঁকে ছাড়পত্র দিচ্ছেন না। আগামীকাল চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত দেবেন তাঁকে হাসপাতালে রাখবেন নাকি রিলিজ দেবেন।’
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান শুনানি শেষে আজ বুধবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তাঁর সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাঁকে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তাঁর কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়।