পর্নোগ্রাফি ভিডিও তৈরি করতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের দেওয়ার অভিযোগে স্বামী মোরসালিনকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ রোববার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের বিনা শ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোরসালিন বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের পঞ্চবটি গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।
জানা যায়, সোনারগাঁ পৌরসভার ফতেকান্দী গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েকে গত এক বছর আগে তাঁর স্কুলের সামনে থেকে কয়েকজন সঙ্গী মিলে অপহরণ করেন মোরসালিন। পরে জোড় পূর্বক বিয়ে করেন। বিয়ের এক মাস পর থেকে তাঁর স্বামী স্ত্রীকে দেহ ব্যবসা ও পর্নোগ্রাফি ভিডিও করতে চাপ সৃষ্টি করেন মোরসালিন। তাঁর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি দেড় লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর দুই কান দিয়ে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
গত শুক্রবার সকালে পুনরায় তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় ওই দিন দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোনারগাঁ থানা-পুলিশ মোরসালিনকে আজ রোববার সকালে আটক করে নিয়ে আসে। পরে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে দুপুরে আমেনা আক্তার ও মোরসালিনকে মুখোমুখি করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, `আমার স্বামী মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাঁর অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। আমি সন্তান ধারণ করলে আমার স্বামী ও শাশুড়ি জোড়পূর্বক গর্ভপাত করায়। গত ৮ জুলাই সে ভাড়া বাড়িতে আমাকে তাঁর বন্ধুদের সাথে অনৈতিক কাজ করতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। বর্তমানে আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম জানান, পর্নোগ্রাফি ভিডিও তৈরি করতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে স্বামীকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। স্বামী স্ত্রীকে মুখোমুখি করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।