ছদ্মনাম ব্যবহার করে গৃহকর্মীর কাজ নিতেন বিলকিস বেগম। কাজ নিয়ে তিনি খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাসার মানুষদের অচেতন করে একের পর এক চুরি করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। চুরি করতে গিয়ে করেছেন খুনও। অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান এসব তথ্য জানান।
এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গত বছরের ১৩ আগস্ট উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে ইবনুল আলম পলাশের বাসায় কাজের খোঁজে যান আঞ্জুমান। বাসার তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেনের মাধ্যমে তিনি কাজ পান এবং পরদিন থেকে কাজে যোগ দিতে বলা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি আনতে বলা হলেও প্রথম দিন তিনি তা আনেননি, পরে দেওয়ার কথা জানান।
ওই দিন সকালে গৃহকর্তা ইবনুল আলম ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই অফিসে চলে যান। কিন্তু ইবনুলের মা রওশনারা বেগম (৬৬) বাসায় ছিলেন। সকালে তাঁর নাশতার জন্য রুটি ও আলুভাজি তৈরি করেন আঞ্জুমান। কৌশলে ভাজির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রওশনারাকে অচেতন করে তাঁর হাতের সোনার বালা, কানের দুল, তিন হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান ওই গৃহকর্মী। বিকেলে বাসায় ফিরে ইবনুল তাঁর মাকে অচেতন অবস্থায় দেখে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। নয় দিন পর রওশনারা সুস্থ হয়ে বাড়ি যান।
এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন। মামলা হলেও পুলিশ আসামি শনাক্ত করতে পারেনি। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পিবিআই তদন্ত শুরু করে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের তথ্য থেকে আসামিকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরায় একই কৌশলে চুরি করতে গিয়ে এক হত্যার ঘটনায় বিলকিস বেগম (৪০) নামে এক গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই ঘটনার মিল থাকায় তাঁর ছবি ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেখানো হলে তাঁরা শনাক্ত করেন। তখনই জানা যায়, ভিন্ন নামে একই নারী এসব ঘটনায় জড়িত।
পিবিআই জানায়, বিলকিস বেগম জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি ইবনুল আলমের বাসাসহ গত ৫-৬ বছরে উত্তরা ও হাতিরঝিল এলাকায় একই কৌশলে সাতটি চুরির কথা স্বীকার করেন। এর মধ্যে একটি ঘটনায় অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধে একজনের মৃত্যু হয়।
পিবিআই জানায়, তিনি বিভিন্ন সময় মারুফা, আঞ্জুমান ও বিলকিস নামে পরিচয় দিয়ে কাজ নিতেন। তাঁর কোনো এনআইডি বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেই। তাঁর সঙ্গে কোনো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।