রাজধানীর উত্তরায় আধা পাকা ঘরের ভেতরে কাদের গাজী (২৩) নামের একজন রিকশা চালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের সিএনজি পাম্প সংলগ্ন আছিয়ার বস্তির একটি টিনশেড রুম থেকে সোমবার রাত ১০টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ওই রিকশা চালক হলেন, বরগুনা জেলার সদর উপজেলার ১ নম্বর ব্লকের উত্তর হেলুবুনিয়া গ্রামের মো. দেলোয়ার গাজীর ছেলে। বর্তমানে একই বস্তিতে মা-বাবা, বোন ও স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করতেন।
নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৫টায় রিকশা চালিয়ে আসছে। পরে ভাত খাইছে। খাওয়া দাওয়া পর বলে একটা মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। তার কাছে যাবো। আবার সে যেই গ্যারেজের রিকশা চালায় সেখানেই জুয়া খেলে। পরে আমি যেতে বাধা দিলে আমাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। তারপর রুমের দরজা লাগিয়ে ফেলে। সন্ধ্যায় শাশুড়ি, আমি ও ননদ রুমের দরজা খুলে দেখি আমার স্বামীর মরদেহ ঝুলছে।’
সুরাইয়া বলেন, ‘আমাদের বিয়ে হয়েছে আট মাস হল। বর্তমানে আমি পাঁচ মাসের গর্ভবতী। কাজ করে সব টাকা জুয়া খেলে শেষ করত। ঘরে ঠিকমতো বাজার সদাইও করত না।’
কান্না করতে করতে একটু পর পর মুরছা যাচ্ছেন নিহত কাদের গাজীর মা শিউলি বেগম। অপরদিকে নিহত কাদের ছোট বোন জান্নাত কান্না করতে করতে জ্ঞান হারাচ্ছেন।
নিহত কাদের গাজীর বাবা মো. দেলোয়ার গাজী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এসে দেখি কাদের ঘরের মধ্যে ঝুলছে।’
উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরে কাদের আত্মহত্যা করেছে। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’