রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস। সংগঠনটি বলছে, এ ঘটনা শুধু একটি শিশুহত্যা নয়; বরং দেশে শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বিদ্যমান গুরুতর ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ।
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও শিশুবান্ধব তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার, বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায় কোয়ালিশনটি। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কোনো ধরনের বিলম্ব, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব খাটানো বা আপস গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করে তারা।
কোয়ালিশনটি গঠিত হয়েছে–ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, জাগো ফাউন্ডেশন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশকে নিয়ে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ২৮ জন নারী ও মেয়ে শিশু যৌন সহিংসতাসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে মেয়ে শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ৪৭৯ টি।
এ ছাড়াও গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের তথ্য উল্লেখ করে তারা জানায়, ২০২৫ সালে অন্তত ৪৭৬ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ১৫৩ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে, ১১১ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে এবং ১৫৬ জন আত্মহত্যা করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব পরিসংখ্যান কেবল প্রকাশিত ঘটনার চিত্র তুলে ধরে। ভয়, সামাজিক অপবাদ ও চাপের কারণে অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না।