প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ভয়ংকর মাদক পাচার করে আসার অভিযোগে আটক হয়েছেন অনেকে। তবে এখন আর পাচার নয়, রীতিমতো কারখানা গড়ে ইয়াবা তৈরি করা হচ্ছে, তা-ও আবার খোদ রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের অঞ্চলে। এসব কারখানায় মেশিন বসিয়ে, কাঁচামাল এনে কেমিস্ট দিয়ে ইয়াবা তৈরি করা হতো। উৎপাদিত ইয়াবা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহও করতেন এসব কারখানার মালিকেরা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে ইয়াবা তৈরির এমনই দুটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাব। রোববার (২ আগস্ট) রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির এই দুটি কারখানা থেকে ইয়াবা তৈরির দুটি মেশিন, ১৭ কেজি কাঁচামাল ও ৩১ হাজার ২৭২ ইয়াবা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে একজন ইয়াবা ডিলার, একজন কেমিস্ট-ডিলার এবং পৃথক অভিযানে একটি ওয়ান শুটার গানসহ আলোচিত সন্ত্রাসী মো. হাসান ওরফে মাগুর হাসানকে আটক করা হয়।
আজ সোমবার র্যাব-২-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার বছিলা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলসহ ইয়াবা ডিলার ফয়সাল ইসলাম মিঠুকে (৪২) আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১১ হাজার ৭৫৯টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে মিঠুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির একটি মেশিন উদ্ধার করা হয়।
এরপর ফয়সালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের মদিনা মার্কেট এলাকায় আরেকটি ইয়াবা তৈরির কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে কারখানার মালিক ও কেমিস্ট-পরিবেশক নাছিরকে (৪৫) আটক করা হয়। এ সময় একটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, ১৭ কেজি ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল এবং ১৯ হাজার ৫২০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়।
র্যাবের দাবি, নাছির নিজেই ইয়াবা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন।
একই রাতে পৃথক আরেকটি অভিযানে মোহাম্মদপুরের বোটঘাট এলাকা থেকে একাধিক মামলার আসামি ও আলোচিত সন্ত্রাসী মাগুর হাসানকে (২৮) একটি ওয়ানশুটার গানসহ আটক করা হয়। র্যাব জানায়, মাগুর হাসান এর আগে বিভিন্ন মামলায় পাঁচবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ফয়সাল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান, তেজগাঁও, ডেমরা ও মোহাম্মদপুর থানায় দাঙ্গা, চুরি, বলপূর্বক সম্পদ গ্রহণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চোরাই মাল কেনাবেচাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া মাগুর হাসানের বিরুদ্ধে ভোলার লালমোহন থানায় মাদক, দাঙ্গা, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের তিনটি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পাশাপাশি ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানায় চুরি, ডাকাতি, হত্যাচেষ্টা ও মাদক আইনে সাতটি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।