রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এই অভিযোগপত্র আজ রোববার আদালতে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এই সূত্র জানায়, ডিএনএ ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ১৯ মে ঘটনার পরপরই বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা উল্লেখ করা হচ্ছে। অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ করেন, তারপর হত্যা করেন।
পরে লাশ গুম করার জন্য তার মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে। দুই হাতও কাটা হয়। তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৬) লাশ গুম করার কাজে সহযোগিতা করেন। স্থানীয়রা দরজা খোলার চেষ্টাকালে তিনি দরজা বন্ধ রেখে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেন।
আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান গতকাল শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, অভিযোগপত্র প্রস্তুত। রোববার (আজ) আদালতে জমা দেওয়া হবে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান সন্ধ্যায় জানান, পল্লবীতে শিশু হত্যার ঘটনায় ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৯ মে সকালে পল্লবী থানাধীন মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের একটি বাসায় ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু। সেদিন সন্ধ্যায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে এবং সকালে তাঁর স্ত্রীকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ হত্যার ঘটনায় পরদিন ২০ মে পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন নিহত শিশুটির বাবা (৫৫)। ২১ মে শিশুটিকে মুন্সিগঞ্জে দাফন করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্র ও বিচার নিয়ে গতকাল শিশুটির বাবা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘একজন বাবা হিসেবে যেমনটা চাওয়া দরকার, সেটাই চাই। আমি চাই, এই হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হতে না হয়।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, পল্লবীর শিশুর হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি সরকার আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করবে।
এই হত্যা মামলার বিচার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল মহাখালীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মামলা যত দ্রুত শেষ করা সম্ভব, আমরা সেই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করব।’ তিনি বলেন, মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচার শেষ করতে এক মাস লেগেছিল। ১৯৪৮ সালের মুলুক চাঁদ মামলার উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই মামলায় এক দিনেই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল।
আইন মন্ত্রণালয় গতকাল এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, মন্ত্রণালয় এই হত্যা মামলায় বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে নিয়োগ দিয়েছে।
পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনে দুপুর ১২টার দিকে নিহত শিশুটির বাসায় গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক বন্ধ। ফটকের ওপরেই হত্যাকারীর বিচার চেয়ে তিনটি ব্যানার টানানো। প্রধান ফটকের পাশেই কিছু নারী জড়ো হয়েছেন। তাঁরা জানান, এমন নৃশংস ঘটনার বিচার দ্রুত করা উচিত। আসামি সব স্বীকার করেছে। তারপরও কেন বিচারে দেরি হবে।
হালিমা নামের এক নারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে প্রতিদিন এই বাসার সামনে আসি। দাঁড়িয়ে মেয়েটার ছবি দেখি। আমাদের ঘরেও মেয়ে আছে। ভয় হয়, আমাদের মেয়েও কি নিরাপদ? এমন ঘটনার দ্রুত বিচার হওয়া দরকার।’
ওই বাসার সামনের এক দোকানি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তাঁরাও চান, দ্রুত বিচার হোক।