মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি জানায়, গ্রেপ্তার দুজন দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। পরিকল্পনা করে তাঁরা দেশে এসে অপহরণের ঘটনাটি ঘটান এবং পরে আবার মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আজ বুধবার সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার শফিরকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে আরিফুল (৩০) ও সানি (২২) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শফিরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগীর বাবা দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে পরিবারের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন। গত ১১ জানুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়, তাঁর বাবা মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। টাকা নিতে রাজধানীর দক্ষিণখানের জয়নাল মার্কেট এলাকায় যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অপহরণকারীরা তাঁকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুরের পল্লবীর একটি ভবনে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুসন্ধান শুরু করে। পরে পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা ১২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভুক্তভোগীকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা দক্ষিণখান থানায় মামলা করেন।
মামলাটির তদন্তে সিআইডি জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
সিআইডির দাবি, চক্রটি কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একই ধরনের অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। সানির বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় একটি পুরোনো মামলাও রয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।