ঢাকার ওয়ারী এলাকায় নারীকে যৌন হয়রানির দায়ে এক আইনজীবীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এ রায় দেন।
কারাদণ্ড প্রাপ্ত আইনজীবী হলেন মোবারক হোসেন মোহন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক মাস কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।
এই মামলায় জামিনে থাকা মোবারক হোসেন মোহন রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। রায় শেষে তাঁকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. ফোরকান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মোবারক হোসেন মোহন ওই নারীর চাচাতো ননদের জামাই। ওয়ারীর ভজহরি সাহা স্ট্রিট এলাকায় একই বাসায় বসবাস করতেন। আইনজীবী মোবারক হোসেন বিভিন্ন সময়ে ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতেন। ভুক্তভোগী বিষয়টি তাঁর স্বামীকে জানালে লোকলজ্জার ভয়ে তাঁরা বিষয়টি কারও কাছে প্রকাশ করেননি।
আরও জানা যায়, ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট রাত পৌনে ৯টার দিকে বাসার রান্নাঘরের পাশে পেছন থেকে জাপটে ধরে ওই নারীকে যৌন হয়রানি করেন মোবারক। এ ঘটনায় ওই দিনই ওয়ারী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশীদ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
২০১৯ সালের ১ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।