জালিয়াতির মাধ্যমে ওয়ারিশদের সম্পত্তি আত্মসাতের ঘটনায় ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ আমলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন গ্রেপ্তার দেখানোর এই নির্দেশ দেন।
তুরিন আফরোজকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। এই মামলা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দায়ের করেন তুরিন আফরোজের ভাই শাহ নেওয়াজ আহাম্মদ শিশির।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কফিল মাহমুদ রায়হান জানান, বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার নথিপত্র ও বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরার রেসিডেনসিয়াল মডেল টাউনের ১১ নম্বর সড়কের ৩ সেক্টরের ১৫ নম্বর প্লটের পাঁচতলা বাড়িতে ২০০২ সাল থেকে বসবাস করে আসছিলেন শামসুন্নাহার বেগম ও তাঁর ছেলে শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ। তবে নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে মা ও ভাইকে ওই বাড়ি থেকে ২০১৭ সালে বের করে দেন তুরিন আফরোজ।
বাদী শাহ নেওয়াজ আহাম্মদের অভিযোগ, অভিযুক্ত তুরিন আফরোজ প্রভাব খাঁটিয়ে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, তাঁদের বাবা মারা যাওয়ার পর তুরিন আফরোজ জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া হলফনামা তৈরি করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন। এ ছাড়া তিনি প্রভাব খাঁটিয়ে বাদীর মায়ের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দলিলপত্র নিয়ে যান।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তুরিন আফরোজ বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন, যার ফলে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে তাঁর ভাই মামলা দায়ের করার পর আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদীর অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
পারিবারিক এই সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে উভয় পক্ষের মধ্যে দেওয়ানি মামলা রয়েছে। ভাইয়ের বিরুদ্ধে তুরিন আফরোজ একটি ফৌজদারি মামলাও দায়ের করেছিলেন। ওই মামলাটি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে আটক করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে আটক রাখা হয়। তাঁকে কয়েক দফা রিমান্ডেও নেওয়া হয়।