প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এক শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরার যে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি ‘এআই জেনারেটেড’ বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার নিশ্চিত করেছে, ছবিটি আসল, এআই দিয়ে তৈরি নয়। ঘটনাস্থলে থাকা ফটোসাংবাদিকেরাও জানিয়েছেন, তাঁরা এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁদের অনেকে ক্যামেরায় সেই দৃশ্য ধারণ করেছেন।
গত বুধবার দুপুরে শাহবাগে তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে এগোতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সংঘর্ষের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
সবচেয়ে আলোচিত হয় ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমের এক শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরার ছবি। অনেকে এটিকে জুলাই আন্দোলনের সময়কার একই ধরনের ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে সমালোচনা করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, সম্প্রতি রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলমকে নিয়ে একটি এআই দিয়ে তৈরি ছবি প্রচার করা হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি এ ছবি জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছবিটি ‘বাস্তবতা বিবর্জিত’ এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বানানো হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তবে রিউমর স্ক্যানার জানায়, ছবিটি আসল এবং এআই দিয়ে তৈরি নয়। তাদের বিশ্লেষণে দেখানো হয়, আলোচিত ছবিতে এআই-জনিত কোনো অসংগতি নেই। বরং মেটাডাটা যাচাই করে প্রমাণ মেলে, ছবিটি গত ২৭ আগস্ট দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া একটি জাতীয় দৈনিকের ফটোসাংবাদিক জয়িতা রায় নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একই ঘটনার আরেকটি ছবি প্রকাশ করেছেন। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া মূল কপির মেটাডাটা পরীক্ষা করেও ছবির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে রিউমর স্ক্যানার।