ঢাকার কেরানীগঞ্জে জমি দখল ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির ৯ নেতা-কর্মী ও সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তাজুল ইসলাম (৫১)। এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে উপজেলার শরীফ পার্ক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিশোধ নিতে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী রুবিনা ইসলাম।
রুবিনা ইসলামের অভিযোগ, বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদা দাবির মামলা করার পর থেকেই তাঁদের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। ওই মামলার একজন আসামি গ্রেপ্তারের পর প্রতিশোধ নিতে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে তাঁর স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যাতে তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিই, সে জন্য পুলিশকে ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তাজুলের ছেলে রাফিয়ালও বাবার গ্রেপ্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাবার কারাবরণের পর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেন, তাজুল ইসলামকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থক ও অর্থ জোগানদাতা ছিলেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় বা পদধারী নেতা নন। এ সময় ওসি তাঁকে ‘দুষ্টু লোক’ বলেও আখ্যা দেন।
এর আগে ২ নভেম্বর খাড়াকান্দি বাজার এলাকা থেকে তাজুলের দায়ের করা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জাহাঙ্গীরকে (৩৭) গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ (এসআরবি-১০)। তিনি কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, তারানগর এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে জমি দখল ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন। এতে কলাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান আওয়াল শিকদারসহ বিএনপির ৯ নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আসামি করা হয়। মামলার প্রধান আসামি আওয়াল শিকদারসহ বাকি আট আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।