দেশে প্রতিবছর মরণব্যাধি ক্যানসারের শিকার হয়ে লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত হচ্ছে দেড় লাখের বেশি। এই ব্যাধি থেকে বাঁচতে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এ জন্য দৈনন্দিন জীবনাচারের পরিবর্তন এবং সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।
আজ শুক্রবার সকালে বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে রাজধানীর হাতিরঝিলে নৌ র্যালি শেষে এসব কথা বলেন বক্তারা।
এ সময় ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ক্যানসার নিয়ে আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের কিছুটা ভুল ধারণা আছে। শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ করাই আসল কাজ। বিভাগীয় পর্যায়ে আটটি হাসপাতাল হচ্ছে। এতে করে স্ক্রিনিং সহজ হবে এবং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।
ডা. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দেশে কেবল স্তন ও জরায়ু ক্যানসারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু মুখগহ্বরের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্যানসারকে অবহেলা করা হয়। যেটি মোটেও ঠিক নয়।’
এ সময় জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ক্যানসারের ব্যয়বহুল চিকিৎসা মেটাতে গরিব মানুষ তো বটেই, মধ্যবিত্তদেরও নিঃস্ব হতে হয়। এ জন্য আমাদের শুরু থেকে প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে। সব ধরনের তামাক বর্জন, মেয়েদের ১৮ বছরের নিচে বিবাহ না দেওয়া এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি খাবারের টেবিলে শাক-সবজি খেলে অনেক ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব।
ডা. স্বপন কুমার বলেন, ‘গত ৯ জানুয়ারি ক্যানসার চিকিৎসাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে আটটি বিভাগে ক্যানসার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে সরকার। এসব হাসপাতালে ক্যানসারসহ অসংক্রামক সব রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’