জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর গুলশানে ২৭ কাঠার একটি সরকারি পরিত্যক্ত প্লট আত্মসাতের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এ এই শুনানি হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সালাম মুর্শেদীসহ বেশ কয়েকজন আসামির পক্ষে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন তাঁদের আইনজীবীরা। তাঁরা অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করে। শুনানি শেষে বিচারক মো. আব্দুস সালাম আগামী ৬ জুলাই আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না বা বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশ হবে ওই দিন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম ও প্রকৌশলী এম আজিজুল হক; সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান; কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তাঁর ভাই মীর মো. নুরুল আফছার; ইফফাত হক ও তাঁর স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল মঈন; নুরুল হক; রহমান ভূঁইয়া এবং মাহবুবুল হক।
গুলশান ২ নম্বরের ১০৪ নম্বর সড়কের পরিত্যক্ত প্লট দখলের অভিযোগে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। পরে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ও সরকারি কর্মচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নম্বর, হোল্ডিং নম্বর-২৯, রোড নম্বর-১০৪ প্লটটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অবমুক্তকরণ ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ডপত্র তৈরি করেন; যা পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করে। পরে সালাম মুর্শেদী ভোগদখল করতে থাকেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।