হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদেশগামী যাত্রী সেজে আবার কখনো যাত্রীদের স্বজন পরিচয়ে বিমানবন্দর এলাকায় ঘোরাঘুরি করতেন তিনি। এ সময় বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে অভিনব কায়দায় হাতিয়ে নিতেন ডলার। জাবেদ হোসেন নামের এমন এক অভিনব প্রতারককে আটক করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিদেশগামী যাত্রীদের ডলার ভাঙানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে মো. জাবেদ হোসেনকে (৪০) আটক করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। তাঁকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউল হক।
মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, জাবেদ কখনো যাত্রী, আবার কখনো যাত্রীদের স্বজন পরিচয়ে বিমানবন্দর এলাকায় ঘোরাঘুরি করতেন। এ সময় সুযোগ বুঝে বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে গল্প করে সখ্য গড়ে তুলতেন। এরপর যাত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় গন্তব্য এবং সঙ্গে থাকা টাকাপয়সার তথ্য জেনে নিতেন। যাত্রীর ধরন বুঝে জানাতন, বিমানবন্দর থেকে ডলার সঙ্গে নেওয়া যাবে না, রিয়াল কিংবা দিরহাম নিতে হবে। এরপর যাত্রীর ডলার ভাঙানোর নামে টাকা, পাসপোর্ট, মোবাইল নিয়ে সরে পড়তেন এই প্রতারক। |
জিয়াউল হক জানান, প্রতারণার শিকার যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে এই প্রতারককে ধরার জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের কনকোর্স হল এলাকায় বিভিন্ন যাত্রী ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় জাবেদকে। সেখানে দায়িত্বরত সাদা পোশাকে এপিবিএন সদস্য তাঁর প্রতি বিশেষ নজর রাখেন। প্রতারণার বিষয়টি এপিবিএনের সিভিল টিমের নজরে এলে তাঁকে আটক করে এএপি অফিসে নিয়ে আসা হয়।
আটক জাবেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি বিভিন্ন কৌশলে বিদেশগামী যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের মোবাইল নম্বর নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলে, কৌশলে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা অবৈধভাবে গ্রহণ করে আসছেন। অভিযুক্তের বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদ পেতে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ এবং যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের এই কর্মকর্তা।