গাজীপুরের শ্রীপুরে খাওয়ার লবণ চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার সকালে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের কপাটিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাবিবুর রহমান হবি (৭০) উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের কপাটিয়াপাড়া গ্রামের মৃত ইন্নছ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৪০), হযরত আলীর স্ত্রী সেলিনা খাতুন (২৭) এবং হ্যাপী (৩০) ও সুফিয়া (২৭)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় একটি কারখানার ভেতরে খাওয়ার লবণ নিয়ে নারী শ্রমিক ঝর্ণা আক্তার ও সেলিনা খাতুনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরই জেরে পরে সেলিনার ভাই শফিকুল ইসলাম ঝর্ণা আক্তারের বাড়িতে এসে তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় ঝর্ণা আক্তারকে রক্ষা করতে তাঁর শ্বশুর হাবিবুর রহমান হবি এগিয়ে এলে তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঘুষি দেন শফিকুল। এ সময় তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এরপর শ্রীপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগ এনে নিহতের মেয়ে সেলিনা আক্তার বলেন, ‘গত শনিবার শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় একটি জুতা তৈরির কারখানায় খাওয়ার লবণ নিয়ে আমার ভাইয়ের স্ত্রী ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে শফিকুল ইসলামের বোন সেলিনা খাতুনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে আজ রোববার সকাল ৯টার সময় শফিকুল ইসলাম আমার ভাইয়ের স্ত্রী ঝর্ণাকে মারধর করতে আসে। পরে আমার বাবা ঝর্ণা আক্তারকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শফিকুল ইসলাম গলায় গামছা পেঁচি সজোরে ঘুষি দেয়। এরপর আমার বাবা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে চকপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাবাকে শ্রীপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে বলেন। দ্রুত বাবাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মতিউর রহমান বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।’
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মালিহা বিনতে মোস্তফা বলেন, ১১টা ১৫ মিনিটের সময় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আনিসুল আশেকীন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।’