বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে একটি মশাল মিছিল হয়েছে। রোববার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিএনএস সেন্টার থেকে এই মশাল মিছিলটি বের হয়। এতে প্রায় ৩০ জন ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিল।
উত্তরার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলটি বিএনএস সেন্টার থেকে আজমপুর হয়ে শহীদ মুগ্ধ মঞ্চে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘লীগের দোসর ফজু ভাই, এখনো কেন পালায় নাই’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ফজলুদের ঠাঁই নাই’, ‘কাউয়া গেছে যেই পথে, ফজু যাবে সেই পথে’ স্লোগান দেয়।
মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কানেক্টিং গাজী’স-এর কমান্ডার জনি আখন্দ বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানের মতো যাদের ওপর বাকশালি প্রেতাত্মা ভর করেছে, যারা বিএনপিতে বসে গুপ্ত রাজনীতি করছে, যারা বাকশালি বয়ান ফেরি করছে, তারা সাবধান হয়ে যান। জুলাই বিপ্লবীরা ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আশা করি, বিএনপি তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করবে।’
তুরাগের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে এর থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না। সে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং কৃষক লীগ নেতা ছিল। সে কীভাবে বিএনপিতে ঢুকল, সেটা জানতে চাই।’
বিমানবন্দরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্যসচিব নোমান রেজা বলেন, ‘যারা জুলাই বিপ্লবীদের রাজাকার বলে, তারা হলো হানাদার। তারেক রহমানের কাছে আমার প্রশ্ন, ফজুর মতো মানসিক ভারসাম্যহীন নেতার নেতৃত্বে বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দল কীভাবে পরিচালিত হয়।’
জুলাই ব্রিগেডের অন্যতম সংগঠক লাবীব মুহান্নাদ বলেন, ‘বড় রাজনৈতিক দলকে বলব—যারা জুলাইকে ধারণ করে না, যারা দিল্লির তাঁবেদারি করে, মুজিবের তাঁবেদারি করে, শেখ হাসিনার তাঁবেদারি করে, তাদের অতি দ্রুত বাংলাদেশ থেকে বের করে দেওয়া হোক। যদি তা না পারেন, তাহলে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেব আমরা।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফজলুর রহমান একটি টেলিভিশনের টক শোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার মূল পরিকল্পনাকারী জামায়াত। এই সময় তিনি জুলাই আন্দোলন ও আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে সম্বোধন করেন।