পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আজ মঙ্গলবার নগর ভবন অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। প্রথম পর্যায়ে এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে এই স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হয়।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, হারপিক বাংলাদেশের অর্থায়নে, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের সহযোগিতায় এবং ডিএসসিসির ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিনা মূল্যে এই স্বাস্থ্যসেবা কার্ড পাচ্ছেন। এই কার্ডের আওতায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের ছয়জন সদস্য পর্যন্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাবেন।
এ ছাড়া এই কার্ড ব্যবহার করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দেশের ৪৫০টি অনুমোদিত হাসপাতালে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও ডায়াগনস্টিক সেবায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় পাবেন। কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা কিট বিতরণ করা হবে বলেও জানিয়েছে ডিএসসিসি। পাশাপাশি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য খাত ক্রমেই ব্যবসাকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে নগরীকে বাসযোগ্য রাখছেন। সমাজের জন্য তাঁদের এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ‘আজ প্রথমবারের মতো পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য এই স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু হলো। আমি আশা করি, এই উদ্যোগ শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং বিত্তবানরা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে আসবেন।’
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে জ্যাকেট, হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।