বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত তিন শ্রমিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর দক্ষিণখানে চৈতি গার্মেন্টসের কয়েক শতাধিক শ্রমিক বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণখান থানাধীন চালাবনের চৈতি গার্মেন্টস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উত্তরার মহাসড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে আজমপুর রেলগেট এলাকার দিকে যায়। পরে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেয়।
শুরুতে শ্রমিকেরা আজমপুর টু উত্তরখান সড়ক অবরোধ করেন। সেই সঙ্গে গার্মেন্টসটির সামনে বিক্ষোভ দেখান। ২০-২৫ মিনিট অবরোধের পর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে উত্তরার আজমপুরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আজমপুর রেলগেট এলাকায় পুলিশি বাধায় বেলা ১১টার দিকে তা পণ্ড হয়ে যায়। পরে শ্রমিকেরা চলে যান।
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা আজকের পত্রিকাকে বলেন, চৈতি গার্মেন্টসের তিনজন শ্রমিকের ওপর হামলা চালিয়েছে গার্মেন্টস মালিকপক্ষের কিছু শ্রমিক ও বহিরাগত লোকজন। ওই হামলার প্রতিবাদে পাঁচ দিন ধরে আন্দোলন চলছে। তবু আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
তবে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শ্রমিকেরা অযৌক্তিকভাবে আন্দোলন করছে। শ্রমিকদের দুই পক্ষই মারামারি করছে। পরে দুই পক্ষেরই মামলা হয়েছে। দুই পক্ষেরই মামলা শতভাগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। পরে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা তো চাই গার্মেন্টস সুন্দরভাবে চলুক। গার্মেন্টস দেশের সম্পদ। শ্রমিকেরা তো এগুলো বোঝে না।’
দক্ষিণখানে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন শ্রমিককে ফোনে কারখানার বাইরে ডেকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দক্ষিণখান থানাধীন চৈতি গার্মেন্টস-সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহতরা হলেন চৈতি গার্মেন্টসের কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান (৩২), ফিনিশিং আয়রনম্যান সবুজ মিয়া (২৮) ও বাচ্চু মিয়া (৩২)।
তখন আহত শ্রমিক ও তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকেরা অভিযোগ করে বলেন, মালিকপক্ষের শ্রমিক ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অংশ নেয়।