রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল মৃধাবাড়ি এলাকায় পানির ট্যাংক থেকে আরিফা (৫) নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ভাবির (১৬) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আদালতে পাঠানো হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে নিহত আরিফার বাবা মো. রাজীব জানান, তাঁদের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিদুলকুড়া গ্রামে। তিনি পেশায় দিনমজুর। তাঁর স্ত্রী গৃহিণী। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে আরিফা ছিল সবার ছোট। বর্তমানে ভাটারা কুড়িল মৃধাবাড়ি এলাকায় ভাড়ায় থাকেন। কয়েকদিন আগেই স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল আরিফাকে।
রাজীব জানান, আরিফার জন্য তার বড় ভাই হাসান (১৮) বাইরে থেকে কোনো কিছু নিয়ে এলে এটি নিয়ে রাগ করত হাসানের স্ত্রী। ঘটনার আগের রাতেও হাসান তাঁর বোনের জন্য একটি প্লাস্টিকের পুতুল আর ফুল নিয়ে আসেন। এটা দেখেই আরিফার ভাবি (হাসানের স্ত্রী) রাতে ঝগড়া করে। গতকাল বুধবার সকালে তিনি ও ছেলে কাজে বেরিয়ে যান। তাঁর স্ত্রী (আরিফার মা) আরিফাকে বাসায় রেখে বাড়িওয়ালার বাসায় যান। পরে তাঁর স্ত্রী বাসায় ফিরে সন্তানকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
রাজীব আরও জানান, দুপুর পর্যন্ত আরিফাকে না পেয়ে বাসার পাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হয়। ফুটেজে শিশুটিকে বাসার বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। পরে খোঁজাখুজি করলে বাসার পাশের একটি পানির ট্যাংকে আরিফার লাশ দেখতে পান তাঁরা। তখন সন্দেহ হলে আরিফার ভাবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। এরপর থানা-পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মওদুদ কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গতকাল বিকেলে খবর পেয়ে পানির ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় শ্বাসরোধের দাগ রয়েছে এবং ঠোঁটেও জখম রয়েছে।
এসআই আরও জানান, ওই কিশোরীকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের কাছেও নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে সে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহত শিশুর বাবা। আজ কিশোরীকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। ঢামেকের মর্গে শিশুর মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। ঘটনাটির সঙ্গে ওই কিশোরী ছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।