ঢাকার মিরপুরের ডিওএইসএসের বাসায় আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীকে ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ইনস্টেট আল বিরুনী মীর তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আলভীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি পরিদর্শক আব্দুল মালেক আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালত আজ বুধবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ ২ দিন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর জাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ১ মার্চ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনেরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ইকরার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় ওই দিন রাতেই মামলা করেন তাঁর মামা শেখ তানভীর আহমেদ। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তাঁর ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে এ মামলায় আসামি করা হয়। নাসরিন সুলতানা ইতিপূর্বে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উসকানিমূলক কথাবার্তা লিখে ফেসবুকে পোস্ট দিতেন। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উসকানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তাঁর ফেসবুকে পোস্ট করেন। এ কারণে তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেন বলে তদন্তে জানা যায়।
মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, শনাক্তকরণ ও আসামির স্থায়ী ঠিকানা উদ্ঘাটনের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।