যাত্রীবেশে বাসে উঠে এক যাত্রীকে ঘিরে ধরত চক্রের তিন সদস্য। যাত্রীকে চোর চক্রের একজন ধাক্কা দিয়ে ঝগড়া শুরু করত আর বাকি দুজন হাতিয়ে নিত মূল্যবান জিনিসপত্র। ধরা পড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকের নাটক করে পার পেয়ে যেত।
রাজধানীর উত্তরা থেকে এমন একটি চোর চক্রকে গ্রেপ্তারের পর ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন আজ রোববার দুপুরে আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, উত্তরার হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে অভিনব কৌশলে চুর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রহমত উল্লাহ হাওলাদার (২৬), সজল হালদার (২৬) ও অন্তর হাসান সজীব (২৭)।
মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘গ্রেপ্তার তিনজনই একাধিক চুরি মামলার আসামি। তারা মাত্র ২৫ দিন আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। তারপর আবারও এক যাত্রীর কাছে থেকে মোবাইল চুরির চেষ্টাকালে হাতেনাতে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাদের আজ রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।’
ওসি মোহাম্মদ মহসীন আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃদের মধ্যে সজল ড্রাইভার, সজীব গার্মেন্টস শ্রমিক এবং জীবন স্যানিটারি মিস্ত্রি। তারা দিনের বেলায় কাজ করত। আর রাতের বেলায় চুরি করত। তাদের মূল টার্গেট বাসের যাত্রী। তিনজনই কোনো একজন যাত্রীকে ঘিরে দাঁড়াত। তাদের যেকোনো একজন ধাক্কা দিয়ে ওই যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া বাধিয়ে দিত। ঝগড়ার এক ফাঁকে বাকি দুজন তার পকেটে থাকা মোবাইল হাতিয়ে নিত। ঝগড়া বাঁধিয়ে কৌশলে চুরি করে বিধায় তারা খুব একটা ধরা পড়ত না।’
কখনো কখনো ধরা পড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার নাটক করত জানিয়ে ওসি বলেন, তারা নিশ্বাস বন্ধ করে ফেলত, সেই সঙ্গে মুখে থুতু ও লালা বের করে দিত। এতে মানুষ ভয় পেয়ে তাদের ছেড়ে দিত। আর তারাও সুযোগ বুঝে পালিয়ে যেত। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার চোর চক্রের সদস্য। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।