হোম > সারা দেশ > ঢাকা

প্রতিবাদের মুখে শিবিরের প্রদর্শনী থেকে সরানো হলো দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

আজ মঙ্গলবার টিএসসিতে ইসলামী ছাত্রশিবির গণহত্যাকারী রাজাকারদের ছবি প্রদর্শন করে। ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ শিক্ষার্থী, কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের ক্ষোভ ও দাবির মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র-টিএসসি চত্বরে আয়োজিত ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনী থেকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি সরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ছবিগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘৩৬ জুলাই: আমরা থামব না’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি স্থান পায়।

বিগত আওয়ামী লীগের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁদের মধ্যে ছয়জন মৃত্যুদণ্ডে এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সাঈদী কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। অপর ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার টিএসসিতে প্রদর্শনীতে এই সাতজনের ছবি স্থান পাওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁরা প্রদর্শনীর কাছে গিয়ে এসব ছবি রাখার প্রতিবাদ জানান, বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা ছবিগুলো সরানোর দাবি জানান। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দেন। এসব ছবি রাখা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা টিএসসিতে যান। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবির মুখে তাঁরা বলেন, এসব ছবির বিষয়ে তাঁরা অবগত নন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ওই সাতজনের ছবি সরিয়ে দেন।

বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে এসব ছবি স্থান দেওয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, টিএসসি চত্বরে এসব ব্যক্তির ছবি টাঙিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন দ্বিমুখী নীতি নিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সামি আবদুল্লাহ বলেন, শিবির ‘৭১ বনাম জুলাই দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আনামুল হাসান অনয় বলেন, যারা ‘৭১, ’৯০ কিংবা ২০২৪-এ পরাজিত হয়েছে, তারা ফিরে আসতে চাইলে ঢাবির ছাত্রসমাজ আজকের মতোই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

তবে ছাত্রশিবির বলছে, তারা মনে করে, প্রদর্শনীতে যাঁদের ছবি ছিল, তাঁরা ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’। ঢাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন খান বলেন, শাহবাগ থেকে যে ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছিল, তা জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান পর্বে পরাজিত হয়েছে। যে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত ছিল, তাতে যাঁরা শিকার হয়েছেন, তাঁরাও ফ্যাসিবাদের শিকার।

ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে মিছিল করে। একই সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীকে হত্যা: নিজেদের হোটেলের কর্মচারী আটক

‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ সাভারে এখনো পোড়ানো হচ্ছে ইট

বিদেশে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে খুন হন মুছাব্বির, পাঠানো হয় ১৫ লাখ টাকা

টেলিগ্রামে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

মুছাব্বির হত্যায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আপন ভাই, আরেক ভাই পলাতক: ডিবি

সমিতির নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ, হোতা গ্রেপ্তার

বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান

রেডিওথেরাপির সক্ষমতা বাড়ানো দরকার

রাসিকের সাবেক মেয়র লিটন ও পরিবারের ৪১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৯