টিকার জন্য মানুষ রোদে দাঁড়িয়ে আছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সময় পার হচ্ছে, লাইন আর আগায় না। ভাদ্র মাসের ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘর্মাক্ত শরীরে চরম ক্ষোভ আর বিরক্তি নিয়ে তবুও মানুষ অপেক্ষা করছেন। এতো কিছুর পরও তথ্য বিভ্রাটের কারণে অনেককে টিকা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। তাঁরা কার্ডে নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে এসে হতাশ হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন টিকা কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। ডিএসসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের গণ টিকাদান কেন্দ্র করা হয়েছে সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে করোনা টিকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন শান্তিনগর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৫০)। তিনি বলেন, তিন ঘণ্টা ধরে রোদে দাঁড়িয়ে আছি। কখন টিকা নিতে পারবো জানি না।
টিকা প্রত্যাশী মগবাজার এলাকার মিতি আক্তার (৩০) অভিযোগ করেন, টিকা কেন্দ্রে অনিয়ম হচ্ছে। অনেক মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও, অনেকে স্কুলের শিক্ষক ও আনসারের সহযোগিতায় লাইনে না দাঁড়িয়ে টিকা নিয়ে নিচ্ছেন। একই অভিযোগ করেছেন বেইলি রোড় এলাকার অজিফা আক্তার (৩৫)।
মানুষের এতো ভোগান্তির পেছনে কোনো অব্যবস্থাপনা রয়েছে কি-না খোঁজ নিতে গিয়ে সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় টিকাদান কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স জেসমিন আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার সময় যে লোকবল ছিল, এখন একই লোকবল আছে। তবে আমাদের দ্বিগুণ মানুষকে টিকা দিতে বলা হচ্ছে। ফলে টিকা কেন্দ্রে মানুষের চাপ বেশি।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে গণ টিকা কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১ম ডোজের জন্য নির্ধারিত ৭৫টি ওয়ার্ডের ৭৫টি কেন্দ্রেই দ্বিতীয় ডোজের এই টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫৪ ওয়ার্ডের ৫৪টি কেন্দ্রে গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে। দুই সিটি করপোরেশনের প্রত্যেক কেন্দ্রে দিনে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৭০০ জনকে। সেই হিসাবে ১২৯ কেন্দ্রে দিনে করোনা টিকা দেওয়া হবে ৯০ হাজার ৩০০ জনকে। প্রথম ডোজ দেওয়ার সময় প্রতি কেন্দ্রে দিনে ৩০০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিধারণ করা হয়েছিল।
এদিকে গতকাল সোমবার রাতে হঠাৎ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ফেসবুক লাইভে এসে আজ থেকে গণটিকা কার্যক্রমের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে বলে জানান। এ ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রমী পথ অবলম্বন করা হয়েছে। যাঁরা ৭ ও ৮ আগস্ট প্রথম ডোজ নিয়েছেন, আজ শুধু তাঁরাই টিকা নেবেন-বলে জানান তিনি।
আবার টিকা কার্ড অনুযায়ী, আজ দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার কথা ছিল ৯ আগস্ট প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের। ফলে অনেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ঘোষণাটি না জানার কারণে টিকা কেন্দ্রে এসে হতাশ হয়েছেন। তাঁদের ফিরে যেতে হয়েছে। ঠিক একইভাবে কার্ডে উল্লেখিত তারিখ অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজ শুরু না হওয়ায় গত দুদিনে অনেকে ফেরত গেছেন। অবশ্য তাঁরা আজ টিকা পাচ্ছেন।