হোম > সারা দেশ > ঢাকা

রানা প্লাজা-তাজরীনে হতাহতদের ক্ষতিপূরণসহ ৭ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধস ও আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণসহ সাত দফা দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধস ও আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহত শ্রমিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, দায়ীদের বিচারসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সংগঠন ক্ষতিপূরণ আদায় সংগ্রাম কমিটি এই দাবি জানায়।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ডে রানা প্লাজা ধসে পাঁচটি পোশাক কারখানা—নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড, নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড, ফ্যান্টম অ্যাপারেলস লিমিটেড, ফ্যান্টম টেক্স লিমিটেড ও ইথার টেক্স লিমিটেডের ১ হাজার ১৩৮ জনের বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি। এর আগের দিন ভবনে বড় ফাটল দেখা দিলেও শ্রমিকদের জোর করে কাজে ফিরিয়ে আনা হয়, যা এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

রানা প্লাজা ধসের পাঁচ মাস আগে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারান এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার গেট বন্ধ থাকায় বের হওয়ার কোনো সুযোগ না পেয়ে শ্রমিকেরা মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হন।

সংগঠনটি দাবি করে, দুটি ঘটনাই বিশ্বের অন্যতম বড় শ্রমিক হত্যার উদাহরণ হলেও বহু ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক এখনো ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত।

মামলাগুলোর অধিকাংশ আসামি জামিনে মুক্ত থাকলেও বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি পায়নি। অন্যদিকে বিচার শেষ না হলেও ভবনমালিক সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন, যা বিচারপ্রক্রিয়ার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল আশুলিয়ার বাইপাইলে স্পেকট্রাম গার্মেন্টস কারখানায় ৭৩ জন শ্রমিক এবং ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর আশুলিয়ার হামিম গ্রুপের দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার লিমিটেড কারখানায় ২৯ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। দীর্ঘ সময় পার হলেও এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও পরিবার এখনো ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। একই সঙ্গে দায়ী কারখানামালিকদের বিরুদ্ধেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—হতাহত শ্রমিকদের পুনর্মূল্যায়ন করে ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও বিশেষ চিকিৎসা নিশ্চিত, সব পোশাকশ্রমিককে ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম’-এর আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করা, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, সহায়তার নামে প্রাপ্ত অনুদানের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ, দায়ী মালিকদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয়, নিহত শ্রমিকদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও ২৪ এপ্রিলকে ‘শ্রমিক হত্যা দিবস’ ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর নৈতিক ও আইনি দায় নিশ্চিত করা।

এ সময় দাবিনামা পাঠ করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু। সংবাদ সম্মেলন শেষে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এদিকে, আগামীকাল রানা প্লাজা ধসের ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

শাহবাগ থানার ভেতরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

শাহবাগ থানা চত্বরে ডাকসুর দুই নেতাকে মারধর

সাংবাদিকেরা প্রবেশাধিকার না পেলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: সমাবেশে আইনজীবীরা

ছাগল-কাণ্ডে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরানের জামিন

জাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও ছাত্রীকে বিবাহের অভিযোগ

জ্বালানি সংকট: যেখানে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক, সেখানে বেশি ভিড়

আগারগাঁওয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী

ভার্চুয়াল আদালতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আইনজীবীদের আলটিমেটাম

মহাখালীতে বাসের ধাক্কায় নিহত দুজনের পরিচয় শনাক্ত

গ্রিন রোডে আবাসিক হোটেলের বাথরুমে মিলল তরুণীর মরদেহ