সারা জীবন যিনি দেশ ও মাতৃকার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে গেলের তাঁর জন্ম কিংবা মৃত্যু দিবসেও তাঁকে স্মরণ করার মত কেউ নেই। প্রতি বছর তাই অনেকটা নীরবেই চলে যায় মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীর মৃত্যু কিংবা জন্ম দিন। এ দেশের মানুষ ভুলে গেছে কে ছিল মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী? কী ছিল তাঁর অবদান?
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক মহানায়ক ছিলেন মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী। বিপ্লবী কাজের জন্য যিনি নেলসন ম্যান্ডেলার থেকেও বেশি সময় জেলে কাটিয়েছেন। জীবনের ৩০ বছর ছিলেন তিনি জেলে। আজ ৯ আগস্ট তাঁর ৫১ তম প্রয়াণ দিবস।
১৮৮৯ সালের ৫ মে ময়মনসিংহ (বর্তমানে কিশোরগঞ্জ) জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার কাপাসাটিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে ইংরেজরা ভারতবর্ষ দখল করে। স্বাধীনতা হারায় ভারতবাসী। ব্রিটিশদের কাছ থেকে সে স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে জীবনের সবটুকু সময় বিসর্জন দিয়েছেন মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী।
দেশ ও মানুষের কথা ভেবে চিরকুমার ছিলেন তিনি। ১৯৬৭ সালে তাঁর লেখা 'জেলে তিরিশ বছর ও পাক-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম' বই থেকে জানা যায়, 'পৃথিবীতে সম্ভবত আমিই রাজনৈতিক আন্দোলন করার কারণে সর্বাধিক সময় জেলখানায় অতিবাহিত করেছি। মাঝখানে দু-এক মাস বিরতি ছাড়া আমি টানা ৩০ বছর জেলখানায় কাটিয়েছি এবং ৪-৫ বৎসর অজ্ঞাতবাসে কাটিয়েছি। জেলখানার পেনাল কোডে যেসব শাস্তির কথা লেখা আছে এবং যেসব শাস্তির কথা লেখা নাই তাহার প্রায় সব সাজাই ভোগ করিয়েছি।'
১৯৭০ সালের ৯ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ মহারাজকে বাঙালি জাতি স্মরণ করতে না জানলেও ভারতবাসী এখনও স্মরণ করে যাচ্ছে।